মেয়ের কাছে দুই দিন সময় নিয়েছেন রোজিনা

পেশাগত দায়িত্বপালনকালে হয়রানির শিকার প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের একমাত্র মেয়ে আতিকা ইসলাম আলভিনা এখনো জানে না তার মা কোথায় আছে। রোজিনা ইসলামের পারিবারিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

‘তথ্য চুরির’ অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে মঙ্গলবার (১৮ মে) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ মে) তার জামিন আবেদনের শুনানি হবে।

রোজিনার একমাত্র মেয়ের বয়স ৮ বছর। মাকে ছাড়া মেয়ে কী করছে জানতে চাইলে রোজিনা ইসলামের মা তাসলিমা বেগম জানান, ‘মেয়ের কাছ থেকে রোজিনা দুই দিনের সময় চেয়ে নিয়েছে। সে ফোনে আমাকে বলেছে যে, আমি যেন মেয়েকে বলি— মা দুই দিনের জন্য বাইরে যাচ্ছে। মেয়ে যেন নানুর সঙ্গে, সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকে।’

রোজিনা ইসলামের মামাতো বোন নাজনীন আক্তার রেখা বলেন, ‘আলভিনা ভালো আছে। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করছে। ওকে আসলে সেভাবে বিষয়টা জানানো হয়নি। আলভিনা জানে যে ওর মা দুইদিনের জন্য ময়মনসিংহ গেছে, একটা রিপোর্টের জন্য। ওকে এভাবে বলা হয়েছে।’

রোজিনা ইসলামের মা তাসলিমা বেগম জানান, সোমবার রোজিনা এবং তার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু করোনার টিকা নেওয়ার জন্য সচিবালয়ে যায়। সেজন্য তিনি তার ছেলের দুই সন্তানকে নিয়ে সকালেই রোজিনার বাসায় আসেন। রোজিনার মেয়ের সঙ্গে বাসায় থাকার জন্য। ইচ্ছে ছিল রাতে তারা বাসায় ফিরলে তিনি নিজের বাসায় ফিরে যাবেন। কিন্তু বিকাল চারটা থেকেই সবকিছু এলোমেলো যায় তাদের।

‘‘সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মেয়েটা (রোজিনা ইসলাম) বলে গেলো— টিকা দিয়ে বাসায় ফিরে আসবে। ওরা হাজবেন্ড-ওয়াইফ গেলো। টিকা দেওয়ার পর মিঠু (রোজিনা ইসলামের স্বামী) নাকি বাসায় নামিয়ে দিতেও চেয়েছিল। কিন্তু মেয়েটা নাকি তাকে বলেছিল— ‘মন্ত্রণালয় থেকে একটু ঘুরে যাই।’ বিকাল চারটার পরে আমরা সবকিছু জানতে পারলাম’’, বলেন তাসলিমা বেগম।

তিনি বলেন, রোজিনার মেয়েকে ভুলিয়ে রাখছেন তারা। টেলিভিশন দেখা বা মোবাইল হাতে নিতে দিচ্ছেন না। তারা চান না, এই বয়সেই যে সাহসী সাংবাদিক মাকে নিয়ে গর্ব করতো ছোট্ট মেয়েটি, সে তার মায়ের কান্নার দৃশ্য দেখুক, দেখুক চারপাশে পুলিশ দিয়ে ঘেরাও হয়ে আছে তার মা।

তাসলিমা বেগম জানান, আজ (বুধবার) রোজিনা ইসলাম তার স্বামীর ফোন থেকে মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছে। মেয়েকে জানিয়েছে, মা দুই দিনের জন্য বাসার বাইরে থাকবে।

রোজিনার মা বলেন, ওর মা ওকে জানিয়েছে, ‘দুই দিনের জন্য আমি বাইরে যাচ্ছি। আমি চলে আসবো, তুমি নানুদের সঙ্গে থাকো।’

এর আগে সোমবার (১৭ মে) দুপুরে সচিবালয়ে পেশাগত দায়িত্বপালনকালে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞার কক্ষে রোজিনাকে প্রায় সাড়ে পাচঁ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন উপ-সচিব তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেখানে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় চুরি এবং ১৯২৩ সালের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়।

মঙ্গলবার (১৮ মে) সকালে রোজিনা ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নেয়া হয়। ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম রিমান্ড নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার (২০ মে) তার জামিন শুনানির দিন ঠিক করে দেন আদালত। পরে রোজিনা ইসলামকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।