কোরআন প্রেমী সায়্যিদ মহিউদ্দিন হাফিজুল্লাহ জান্নাতুল বাকিতে সমাহিত

সুদূর ইমাম বোখারির দেশ থেকে তিনি এসেছিলেন সবুজ গম্বুজের টানে। প্রিয় নবীজির ভালোবাসায়, মসজিদে নববীর খেদমতে এবং রওজায়ে আতহারের সান্নিধ্যে। সেই যে পুণ্যভূমিতে এসেছিলেন আর ফিরে যাননি। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি মদিনার মানুষ ও প্রিয় নবীজির প্রতিবেশী।

গত শুক্রবার জুমার সময় সায়্যিদ মহিউদ্দিন হাফিজুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। সৌদি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তার মৃত্যু সংবাদ বহুল প্রচারিত হয়েছে। এরপর থেকে বহু মানুষ তার মাগফিরাতের দোয়া করেছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মহিউদ্দিন হাফিজুল্লাহর জানাজা শনিবার ফজরের পর মসজিদে নববীতেই অনুষ্ঠিত হয়। মদিনা-মুনাওয়ারায় উম্মুল মুমেনিনসহ অসংখ্য সাহাবি তাবিয়ির সমাধিস্থান জান্নাতুল বাকিতে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।

সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল এই মানুষটি সবসময় কোরআন তিলাওয়াতে রত থাকতেন। আল্লাহর জিকিরে জিহ্বা সিক্ত থাকত। ৫০ বছর ধরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে নববীতেই আদায় করতেন। স্ত্রী-সন্তান ছিল না। একাকী একটি ঘরে থাকতেন।

মদিনাবাসীর ভাষ্যমতে, তিনি ছিলেন সত্যিকারের দুনিয়াত্যাগী, ইবাদতগুজার, আল্লাহর ওলি। মৃত্যুর সময় মহিউদ্দিন হাফিজুল্লাহর বয়স হয়েছিল ১০৭ বছর।

জানা যায়, শায়খ মহিউদ্দিন ছিলেন মদিনা নগরীর প্রবীণদের অন্যতম। ইসলামে দ্বিতীয় খলিফা উমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর বংশধর। ইসলামের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও আলেম মহিউদ্দিন ইবনে আরাবি (রহ.) ছিলেন তার পূর্বপুরুষ।