সালিশ করতে গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে করা সেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

করোনা মহামারির কারণে বাল্যবিবাহ মারাত্মকভাবে বাড়ছে৷ শুধু এ বছরই জোর করে পাঁচ লাখ মেয়েকে বিয়ে দেয়া হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শিশু অধিকার সুরক্ষা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন৷

নতুন খবর হচ্ছে, সালিশ বৈঠকে ডেকে নিয়ে কিশোরীকে বিয়ে করা আলোচিত সেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সোমবার (২৮ জুন) দুপুরে ওই কিশোরীর প্রেমিকে রমজানের বড় ভাই আল ইমরান বাদি হয়ে পটুয়াখালী জুডিসিয়াল আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী আল ইমরানের ছোট ভাই হাফেজ মো. রমজানের সাথে একই এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে নাজনিন আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত ২৪ তারিখ নাজনিন ও রমজান বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়। এ খবর নাজনিনের বাবা নজরুল ইসলাম কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানান।

মামলার বাদি জানান, বর্তমানে তাদের গোটা পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে তাদেরকে এলাকা ছাড়া করার জন্য বার বার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় মহামান্য হাইকোর্টে চেয়ারম্যানের বিচারের দাবী জানিয়ে একটি পিটিশন দায়ের করেন আইনজীবীরা। পরে হাইকোর্ট আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী পিবিআই এবং জেলা রেজিষ্টারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৫ জুন) সকালে ছেলে মেয়েসহ তাদের পরিবারের সকলকে সালিশের জন্য চেয়ারম্যান তার আয়লা এলাকার বাড়ীতে হাজির হতে বলেন। সালিশী বৈঠকে চেয়ারম্যান বাদির ভাইয়ের প্রেমিকা নাজনিনকে পাঁচ লাখ টাকা কাবিন দিয়ে বিয়ে করেন। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হলে তালাকনামায় স্বাক্ষর করে নাজনিনকে তার পরিবারের কাছে পৌছে দেয় চেয়ারম্যান।