আর্থিকভাবে আমার পরিবারকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে: আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক

মারাকানায় কোপা আমেরিকা ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে ১-০ গোলে ২৮ বছর পর শিরোপা জিতে মেসির আর্জেন্টিনা। এতে ফুটবল যাদুকর মেসির স্বপ্নপূরণ ও উরুগুয়ের সমান সংখ্যক তথা ১৫ বার শিরোপা লাভ করে আর্জেন্টিনা।

একসময় তো হারিয়েই যেতে বসেছিলেন মার্টিনেজ। সেখান থেকে ফিরে এসেছেন, আলো ছড়িয়ে মুগ্ধ করে যাচ্ছেন সবাইকে। কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে তিনটি শট ঠেকিয়ে রাতারাতি আর্জেন্টিনার নায়ক মার্টিনেজ। এই গোলরক্ষকের জীবনে প্রতিটি অর্জনই এসেছে অসংখ্য ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে।

বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডের সামনে কানে হেডফোন দিয়ে কথা বলার সময় তার চোখ ছলছল করছে। অশ্রুচোখের সেই খেলোয়াড়টি ছিলেন মার্টিনেজ। দীর্ঘ আট বছর অপেক্ষার পর প্রিয় ক্লাবের হয়ে মাঠে থেকে শিরোপার স্বাদ পাওয়ার আবেগ ধরে রাখাটা এই গোলরক্ষকের জন্য কঠিনই ছিল।

মার্টিনেজকে ক্লাবের ভবিষ্যৎ বলেই মনে করতেন ওয়েঙ্গার। ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষায় থাকার জন্য উপদেশ দিতেন। গুরুর কথা রেখেছিলেন মার্টিনেজ। দুই বছর পর মূল দলে অভিষেক হলেও কখনো জায়গা পাকা করতে পারেননি। পরের আট বছরে আর্সেনাল তাকে ছয়টি ক্লাবে ধারে পাঠিয়েছে। অবশেষে গত বছর স্থায়ীভাবে যোগ দেন অ্যাস্টন ভিলায়।

গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোলরক্ষক মার্টিনেজ জানায়, আর্সেনালে যোগ দেওয়ার জন্যই মার্টিনেজ উপেক্ষা করেছিলেন মায়ের কান্না, চোখের জল। যদিও সেখানে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও ভূমিকা রেখেছিল। অভাব অনটনের সংসারে তার বাবাকে প্রতিদিনের খাবার যোগাতেই হিমশিম খেতে হতো। পরিবারের অবস্থা এতই খারাপ ছিল যে ছেলেকে গ্লাভস কিনে দেওয়ার সামর্থ্যও ছিল না মার্টিনেজের বাবার। তাই আবেগ ঝেড়ে ফেলে তাকে নিতে হয়েছিল কঠিন সিদ্ধান্ত। আমি মাঝরাতে বাবাকেও কাঁদতে দেখেছি, তবে সেটা অন্য কারণে। কারণ তিনি টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। অভাবের সংসারে তাই আমাকে সাহসী হতে হয়েছিল। ফলে আর্সেনালের প্রস্তাবে সম্মত হই।

মার্টিনেজের জার্সি নম্বর ২৩। এর পেছনেও আছে তার ত্যাগের গল্প। শৈশবের কঠিন সময়ের পর আর্সেনালে ব্রাত্য হয়ে থাকাটা মার্টিনেজের ভেতর নিজেকে প্রমাণের তাড়না দিয়েছে বাড়িয়ে। তাই জন্মদিনে ছেলের কাছে না থাকার সিদ্ধান্ত কঠিন হলেও অসম্ভব হয়নি তার কাছে। ছেলের জন্মদিনের সময় কোপা আমেরিকায় দলের সঙ্গে থাকায় তিন বছরের ছেলের জন্মদিন উদযাপন করতে পারেননি মার্টিনেজ। কিন্তু প্রিয় সন্তানকে তিনি ধারন করেছেন ভিন্নভাবে, জার্সি নম্বরের মাধ্যমেই!

এ বিষয়ে মার্টিনেজের ভাই আলেসান্দ্রো বলেন, ওর ছেলের জন্মদিন ছিল জুনের ২৩ তারিখ। তাই সে ২৩ নম্বর জার্সি পরে খেলছে। তাকে ১২ নম্বর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে এটা চেয়ে নিয়েছে। সে বাচ্চাকে খুব ভালোবাসে, সব জায়গায় নিয়ে যায়। তিন বছর বয়সেই সে দুর্দান্ত খেলে। সে বাঁহাতি, যা চমৎকার।