এক চোখ ও এক পা হারানো সেই নুরুদ্দিনই আফগানিস্তানের আইনমন্ত্রী

চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধভাবে তালেবান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা জানিয়েছে। সম্প্রতি এই দেশগুলোর তিনজন বিশেষ দূত কাবুল সফর করেন। সেখানে তারা তালেবানের প্রতিনিধি ছাড়াও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও শান্তি প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গেও বৈঠক করেন।

নতুন খবর হচ্ছে, ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রচার ও অপকর্ম প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়ের প্রধান ও আইনমন্ত্রী মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবির এক চোখ ও এক পা নেই।

তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ওই দুই অঙ্গ হারিয়েছিলেন।

তালেবানি শাসনের প্রথম আমলে নুরুদ্দিন ছিলেন আফগানিস্তানের আইনমন্ত্রী। কারাগারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্বপালন করেছেন তিনি। ইসলামিক আইন কিভাবে বলবৎ করা হবে বা তা ঠিকঠাক বলবৎ হচ্ছে কিনা, সেটা নুরুদ্দিনই দেখাশোনা করতেন। দ্বিতীয় তালিবানি শাসনেও তার হাতে পড়ল সেই দায়িত্ব।

বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ১৯৯৬-২০০১’র শাসনামলে অপরাধীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হতো। চুরি বা সামান্য কম মাত্রার অপরাধে হাত-পা কেটে দিত। এবারও সেই শাসনব্যবস্থারই ঘোষণা দিয়েছেন তালেবান বিচারমন্ত্রী মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবি।

শুক্রবার বার্তাসংস্থা এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি জানিয়েছেন, অপরাধ দমনে মৃত্যুদণ্ড ও হাত কাটার শাস্তিতে ফিরছে তালেবান।

তিনি বলেন, আগের শাসনামলের মতো ইসলামী আইন প্রয়োগ করে অপরাধ দমনে সচেষ্ট হবেন তারা।

নুরুদ্দিন তুরাবি শুক্রবার বলেন, ‘আগের আমলে স্টেডিয়ামে, মসজিদে কিংবা ঈদগাহ মাঠে মৃত্যুযদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আমরা সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলাম। আমি বলতে চাই, আমরা কখনো সমালোচনাকারীদের আইন ও বিচারের বিষয়ে কোনো কথা বলিনি। আমাদের ব্যাপারেও তাদের কথা বলা উচিত নয়। আমরা ইসলাম মেনে চলব। কুরআনের ভিত্তিতে আমাদের আইন তৈরি করব।’