‘ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার পরও আমরা নিউজিল্যান্ডে খেলতে গিয়েছিলাম’

এবার পাকিস্তানের সাথে কোনো আলোচনা ব্যতীতই নিউজিল্যান্ডের সফর বাতিলের ঘটনাকে চরম অসম্মানজনক হিসেবে দেখছে পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ডের সাথে তারা ভালো সম্পর্কের জের ধরে প্রতিদানে পাকিস্তানও কিউইদের কাছে সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশা করেছিল।

এর আগে গত বছর নভেম্বর মাসে পাকিস্তান দল গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড সফরে। বাধ্যতামূলকভাবে এখন প্রায় সবদলকেই সফরে গিয়ে আগে কোয়ারেন্টিন করতে হচ্ছে। তবে অন্যান্য দেশে কোয়ারেন্টিনের পরিমাণ কমানো হলেও নিউজিল্যান্ডে পাকা ১৪ দিন ঘরবন্দী থাকতে হয় এবং নিজের ঘরের সবকাজ নিজেকেই করতে হয়। নিউজিল্যান্ডের এসব শর্ত পাকিস্তান মেনে নিয়েছিল।

এর আগে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ড সফরে থাকাকালীন সেখানে ঘটেছিল এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা। শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিল বাংলাদেশ দলও। সেই সময়ে মসজিদে ঘটে বন্দুক হামলার ঘটনা। মসজিদের উদ্দেশে দেরি করে রওনা দেওয়ার ফলে সৌভাগ্যবশত বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নিরাপদে হোটেলে ফিরতে পারেন। কিন্তু মসজিদে অর্ধশতাধিক মুসল্লি নিহত ও আহত হন।

এসব ঘটনা টেনে পিসিবির প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খান বলেন, “আমাদের যা যা করতে বলা হয়েছিল, সবকিছুই আমরা করেছিলাম। আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য সেসব কঠিন হলেও ক্রিকেটের স্বার্থেই আমরা সব মেনে নিয়েছিলাম। আমরা নিউজিল্যান্ডে গিয়ে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন করেছিলাম। নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা হওয়ার পরও আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। যা যা সম্ভব সবকিছুই আমরা করেছিলাম এবং তাই তাদের কাছ থেকেও একই আচরণ প্রত্যাশা করি।”

তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনা অসম্মানজনক। আমাদের দেশের ২৩০ মিলিয়ন মানুষ ক্রিকেটকে ভালোবাসে এবং গত ১২ বছর ধরে আমরা দেশে ক্রিকেট ফেরানোর জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ, আলোচনা ও তথ্য ব্যতীতই মাত্র ৮-৯ ঘণ্টায় সেসব ধুলিতে মিশিয়ে দেওয়া হলো।”

তিনি বলেন, “যদি সম্ভাব্য কোনো হুমকি একটি দেশের সরকার আরেকটি দেশের সরকারকেও বলতে না চায়, তাহলে বোঝা যাচ্ছে ক্রিকেটে আসলেই অনেক সমস্যা আছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এই বিষয়ে অন্তত ন্যূনতম সৌজন্যতা দেখিয়ে ও সম্মান রেখে আলোচনা হওয়া উচিত। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের সাথে আমাদের আগে থেকেই ভালো সম্পর্ক ছিল কিন্তু তারা এখন যেটা করল তা বিভিন্ন দিক দিয়েই অসম্মানজনক।”

ওয়াসিম জানান, “পাকিস্তানের মতো দেশ থেকে এভাবে কোনো আলোচনা, কোনো কারণ ও কোনো কথা না বলেই চলে যাওয়া খুব সহজ কাজ। বিশ্ব ক্রিকেটের এই অসমতা ও বৈষম্য দূর করা লাগবে, না হলে আমরা কখনোই ভালো কিছু আশা করতে পারবোও না।”