বিশ্বকাপে তিন দেশকে কঠিন জবাব দেয়ার প্রত্যাশায় রমিজ রাজা

শেষপর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের পথই অনুসরণ করল ইংল্যান্ড। পাকিস্তান ভেবেছিল নিউজিল্যান্ড তাদেরকে দূরে ঠেলে দিলেও অন্যরা অন্তত পাশে থাকবে। কিন্তু পাকিস্তানের সেই আশায় আপাতত গুঁড়েবালি। আগামী ১৩ ও ১৪ অক্টোবর দুটি টি-টোয়েন্টি খেলতে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা ছিল ইংল্যান্ড দলের।

অক্টোবরের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে পাকিস্তান নারী দলের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে খেলতে দেশটি সফরে যাওয়ার কথা ইংল্যান্ড নারী দলের। সব কটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল রাওয়ালপিন্ডিতে। এ দুটি সফরই বাতিলের ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইসিবি।

এদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান রমিজ রাজার হতাশা ও ক্ষোভ আরো বেড়ে গেল। তার দাবি, ক্রিকেটের ওয়েস্টার্ন ব্লক একজোট হয়ে পাকিস্তানকে বিপাকে ফেলার আয়োজন করছে। বিশ্বকাপে মাঠের ক্রিকেটে হারিয়েই এই জোটকে জবাব দিতে চান তিনি।

এদিকে বিশ্বকাপের আগে পরপর দুটি সিরিজ বাতিল হওয়ায় প্রস্তুতিতেও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান। সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় সারির দলের সঙ্গে সিরিজের কথাও পাকিস্তান ভেবেছিল বলে জানান রমিজ। তার দাবি, এই দুই দেশ তৈরিই ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাড়াহুড়োর পথ তারা বেছে নেননি বলে জানান তিনি।

আপাতত রমিজের চাওয়া, বিশ্বকাপে মাঠের ক্রিকেটেই যেন জবাব দেয় পাকিস্তান। তন বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে যাব এবং সেখানে আগে লক্ষ্য ছিল একটি দল, আমাদের প্রতিবেশিরা (চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত), সেখানে এখন আরও দুটি দল যুক্ত হলো-নিউ জিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। এখান থেকে শক্তিও মিলবে এবং একটা মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে যে, ‘তোমরা আমাদের সঙ্গে ঠিক কাজ করোনি, আমরা তোমাদের কাছে হারব না।’ মাঠের ক্রিকেটেই প্রতিশোধ নিতে হবে।’

ইংল্যান্ড সিরিজ বাতিল করায় পিসিবির এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে রমিজ আরো বলেন, ইংল্যান্ড সফর বাতিল করায় আমি ভীষণ হতাশ, তবে এটা প্রত্যাশিতই ছিল। কারণ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওয়েস্টার্ন ব্লক এসব ক্ষেত্রে একজোট হয়ে পরস্পরের পাশে থাকে। নিরাপত্তা হুমকি ও শঙ্কার কথা বলে আসলে যে কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া যায়। আমাদের ক্ষুব্ধ হওয়ার একটা কারণ, নিরাপত্তা শঙ্কার ধরণ নিয়ে কোনো তথ্য নিউ জিল্যান্ড আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেনি। এরপর ইংল্যান্ডের ঘোষণা অনুমিতই ছিল, কারণ ওয়েস্টার্ন ব্লক এসবই করে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা শিক্ষা। আমরা তাদেরকে সেবা দিতে নিজেদের সীমা ছাড়িয়ে চেষ্টা করি, তাদের চাওয়াকে মাথায় তুলে রাখি। আমরা দুনিয়ার সেরা অতিথিপরায়ণ। অথচ আমরা ওদের দেশে গিয়ে কোয়ারেন্টিনের সব নিয়ম মানি, অনেক অপমান করা হলেও সহ্য করি। এখানেই শিক্ষা নেওয়ার আছে যে, এখন থেকে আমরা ততটাই করব, যতটায় আমাদের লাভ আছে।’