মারা গেলেন শচীন টেন্ডুলকারকে চিকিৎসা দেয়া সেই ওঝা

ভারতের কিংবদন্তী ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার গত ২০১০ সালে প্রকাশ্যেই এক ওঝাকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। আর ৪৮ বছর বয়সী ওঝা আলোচনায় আসেন তখনই। এ সময় টেন্ডুলকার দাবি করেছিলেন, তার হাঁটুর সমস্যা সারাতে ভূমিকা রেখেছেন শ্রীলঙ্কান এই ওঝা। সেটাই নাকি ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পেতে সাহায্য করেছিল তাকে। শুধু টেন্ডুলকার নন, ভারতের গৌতম গম্ভীর ও আশিস নেহরাও নাকি তার কাছে সেবা নিয়েছিলেন।

এদিকে এলিয়ান্থা হোয়াইট নামের ওই ওঝা ভারতীয় ক্রিকেটারদের চিকিৎসায় সফল হয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু করোনার সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে গিয়ে হেরে গেলেন চির জীবনের জন্য। শুধু ভারতের ক্রিকেটাররাই নন, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক রাজনীতিবিদই শারীরিক নানা সমস্যা দূর করতে ওই ওঝার শরণাপন্ন হতেন।

এবার শ্রীলঙ্কা ও ভারতকে করোনামুক্ত করার উপায় বলে দিয়েছিলেন। নিজের ‘পবিত্র জল’ দিয়ে করোনা দূর করতে চাওয়া সেই ওঝার প্রাণ গেল করোনাতেই। তার কাছে সেবা নিয়েছেন লঙ্কান পেসার লাসিথ মালিঙ্গাও।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসে যখন দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন, সে সময়ে বেশ দাপট ছিল হোয়াইটের। রাজাপাকসের অনুরোধে নাকি ইয়ান বোথামের হাড়ের ব্যথাও সারিয়ে দিয়েছিলেন হোয়াইট। যদিও দেশটির মূলধারার চিকিৎসকেরা হোয়াইটকে ‘ভণ্ড’ বলতেন। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকেরা তার চিকিৎসার কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন।

এদিকে হোয়াইট দাবি করেছিলেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কা থেকে করোনা দূর করতে পারবেন তিনি। উপায় হিসেবে বলেছিলেন, তার কাছে থাকা পবিত্র জল দেশ দুটির নদীতে ঢালবেন, এতেই নাকি দুই দেশ করোনা মুক্ত হবে। শ্রীলঙ্কার বেশ পছন্দ হয়েছিল তার এই উপায়।

এর কিছুদিন পরই হোয়াইট করোনায় আক্রান্ত হয়ে বেসরকারি এক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গতকাল সেখানেই মৃত্যুবরণ করেছেন ১২ বছর বয়সে ‘বিশেষ ক্ষমতা’ পাওয়ার দাবি তোলা এই ওঝা।