মেসি চলে যাওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে বার্সেলোনা শহরও

তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির অভাব বেশ ভালোভাবেই টের পাচ্ছে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা। দলটির বিবর্ণ পারফরমেন্সে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সমর্থকরা। শুধু তাই নয়, মেসির অনুপস্থিতিতে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বার্সেলোনা শহরও। তার প্রস্থানে ২০ শতাংশ পর্যটক হারাবে শহরটি। টাকার অঙ্কে যে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরো।

তাইতো এখন নতুন পরিকল্পনায় ক্লাবকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তাব বিশ্লেষকদের। ক্লাবের লা মেসিয়া একাডেমি থেকে কিভাবে আয় বাড়ানো যায় সেই চিন্তা করার পরামর্শ তাদের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত। তাতেই পরিষ্কার মেসিবিহীন বার্সেলোনার নতুন যাত্রা। অথচ কাতালান ক্লাবটিতে না থেকেও ছিলেন প্রিয় লিও। এখনও সেই ১০ নম্বর জার্সিতেই তাকে পাওয়ার চেষ্টা বার্সা সমর্থকদের। তাইতো বায়ার্ন ম্যাচের আগে প্রচুর বিক্রি হলো এলএমটেন জার্সি।

এদিকে বার্সেলোনা সোশ্যাল ক্লাবের সভাপতি অ্যাঞ্জেল পেরেজ জানান, মাত্র ১২ জন সমর্থক মিলে বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচ দেখতে হয়েছে। অথচ মেসি থাকার সময় সমর্থক উপচে পড়তো হলরুমে। খারাপ লাগলেও এটাই এখন ক্লাবের আসল চিত্র।

মেসির চলে যাওয়ায় মাঠের পারফরমেন্সে যতটা বিবর্ণ বার্সেলোনা তারচেয়ে বেশি আর্থিকভাবে। ক্লাবটির দেনা প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। গ্রিজম্যানসহ একঝাক ফুটবলার ছেড়ে দিয়েও কাটেনি দুরবস্থা। এরইমধ্যে মূল স্পন্সর রাকুটেন ও বেকোকে হারিয়েছে বার্সেলোনা। ঘুরে দাঁড়াতে তাই বিকল্প ভাবার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক পরামর্শদাতা মার্ক সিরিয়ার মতে, বার্সেলোনার লা মেসিয়া যুব একাডেমি বিশ্বমানের। এখান থেকে তৈরি হয় সেরা সব ফুটবলার। তাই একাডেমি ঘিরে আয়ের নতুন চিন্তা করতে হবে। পাশাপাশি ডিপাই, গার্সিয়া ও ফাতিদের তুলে ধরতে হবে ভিন্নভাবে, আকর্ষণীয় রুপে।

এদিকে জোসেফ সোলদাদো নামক এক ক্রীড়া সাংবাদিক বলেন, এই মুহূর্তে বার্সা সমর্থকদের শান্ত হতে হবে। এটা নিশ্চিত আগামী কয়েক বছরেও শীর্ষস্থান ফিরে পাবে না ক্লাবটি। মেসিকে বাদ দিয়েই ভাবতে হবে তাদের। কারণ ২-৩ বছর পর এমনিতেই অবসর নিতে হতো তাকে। এখন ক্লাবটির প্রয়োজন নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া।