রাজস্থানের বিপক্ষে ম্যাচে ফিক্সিং করেছিলেন পাঞ্জাবের ক্রিকেটার!

গত ম্যাচে জয়টা হাতের মুঠোতেই ছিল পাঞ্জাব কিংসের। শেষ দুই ওভারে চাই মাত্র ৮ রান। হাতে ৮টি উইকেট। এমন অবস্থায় হারের কথা ভাবাই অবিশ্বাস্য। অথচ ঘটল সেই ঘটনায়। ৬ উইকেট হাতে থাকলেও ২ রানের হেরে যায় পাঞ্জাব। এমন অবিশ্বাস্য হারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পাঞ্জাবের ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আনে। সেই অভিযোগকে আরও উস্কে দিল ভারতীয় ক্রিকেট দুর্নীতি দমন বিভাগ।

এদিকে ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই ম্যাচে পাঞ্জাবের এক ক্রিকেটারের বিপক্ষে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ এনেছে ভারতীয় বোর্ডের দুর্নীতি দমন কমিশন বিভাগ। সেই ক্রিকেটার হলেন অলরাউন্ডার দিপক হুডা। অভিযোগের সূত্রপাত, হুডার ইনস্টাগ্রাম একটি পোস্টকে ঘিরে। ম্যাচের আগের দিন ইনস্টাগ্রামে হেলমেট পরিহিত একটি ছবি আপলোড করেন তিনি। ক্যাপশনে লিখেন, ‘Here we go’, যা দেখে স্পষ্টতই বুঝা যায় ম্যাচের একাদশে থাকবেন তিনি। যা দলের ভেতরের খবর।

অথচ দুর্নীতি দমন শাখার দেওয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা আছে, দল সংক্রান্ত কোনও খবর দলের বাইরের কাউকে দেওয়া যাবে না। নেটমাধ্যমে পোস্টের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিসিসিআই দুর্নীতি দমন শাখার এক কর্তা বলেন, ‘‘আমরা এই পোস্টটা ভাল ভাবে দেখছি না। ক্রিকেটারদের বলা হয়েছিল, কে দলে আছে, বা কে নেই সেটা কাউকে না জানাতে।’’

অনেক সময় কিছু সংস্থা ক্রিকেটারদের নেটমাধ্যমের দেখভাল করে। তারাও অনেক সময় কিছু ছবি বা ভিডিয়ও পোস্ট করে, যার থেকে সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যার কথা মেনে নিয়ে ওই কর্তা বলেন, ‘‘আসলে এটা ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত প্রোফাইল। অনেক ক্ষেত্রে কোনও সংস্থা এগুলি চালায়। তবে ক্রিকেটারদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যাতে ভুল কিছু পোস্ট না হয়। সন্দেহজনক কিছু দেখলেই আমাদের জানাতে হবে।’’

এই পোস্টের পর হুডাকে সন্দেহ করার কারণ আরোও শক্ত হয়েছে তার মাঠের পারফরম্যান্সে। এদিন বল হাতে ২ ওভারে ৩৭ রান দেন তিনি। যা সবচেয়ে খরুচে বোলিংই ছিল। এরপর ব্যাট হাতে যখন নামেন তখন ৩ বলে জয়ের জন্য তার দলের প্রয়োজন ছিল ৩ রান। এমন সময় ত্যাগীন একটি প্রায় ওয়াইড বল ব্যাট চালিয়ে রাইট করে দেন তিনি। আর ১ বল বাঁকি থাকতে আউট হন ২ বলে ০ রানে। অথচ ব্যাট হাতে বরাবরই পারফর্ম করে আসছিলেন হুডা। তার এমন ব্যাটিংয়ের পর শেষ বলে আর জিততে পারেনি পাঞ্জাব কিংস।

এদিকে হুডার বিপক্ষে এই অভিযোগ যদি সঠিক প্রমাণিত হয় তবে হয়ত বড় শাস্তিই পাবেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দেখার বিষয়, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় কি না।