নিভে গেল ‘বুর্জ খলিফা’ পূজামণ্ডপের আলো

শারদীয়া দুর্গাপূজাকে ‘অকালবোধন’ বলা হয়। কালিকা পুরাণ ও বৃহদ্ধর্ম পুরাণ অনুসারে, রাম ও রাবণের যুদ্ধের সময় শরৎকালে দুর্গাকে পূজা করা হয়েছিল। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, শরৎকালে দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন। তাই এই সময়টি তাঁদের পূজা যথাযথ সময় নয়।

নতুন খবর হচ্ছে, কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করায় পূজামণ্ডপের বর্ণিল আলোকসজ্জা নিভিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। বিমানবন্দর এলাকায় লেজার রশ্মি ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও কাছাকাছি এলাকায় স্থাপিত এ পূজামণ্ডপে সে নির্দেশনা মানা হচ্ছিল না। এ কারণেই বেধেছে বিপত্তি। লেজার রশ্মির বিকিরণে বিমান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে কয়েকজন পাইলট অভিযোগ তোলার পর গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলো নিভিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে পূজা কমিটি। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে দর্শনার্থী প্রবেশের সংখ্যাও।

পশ্চিমবঙ্গে এবারের দুর্গাপূজার মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে উত্তর কলকাতার শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পূজামণ্ডপ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নির্মিত বিশ্বের সর্বোচ্চ অট্টালিকা বুর্জ খলিফার আদলে তৈরি করা হয় এটি। এর লেজার রশ্মিতে বর্ণিল হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা। কয়েক দিন ধরে আকর্ষণীয় এ পূজামণ্ডপ দেখার জন্য সেখানে ভিড় জমাচ্ছিল মানুষ। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শ্রীভূমির তৈরি বুর্জ খলিফা পূজামণ্ডপের দূরত্ব মাত্র সাড়ে আট কিলোমিটার। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আগেই বলা ছিল, বিমানবন্দর এলাকায় লেজার রশ্মি ব্যবহার ও ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধ। তবে তা অমান্য করেই বুর্জ খলিফার আদলে তৈরি পূজামণ্ডপকে লেজার রশ্মিতে বর্ণিল করে গড়ে তোলা হয়।

গত সোমবার রাতে কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) কাছে আলাদা করে তিন এয়ারলাইনসের পাইলটরা অভিযোগ করেন, লেজার রশ্মির বিকিরণে তাঁদের বিমান চালাতে অসুবিধা হচ্ছে। এর পরই এ অভিযোগ চলে যায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে। শেষ পর্যন্ত তাদের নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয় বুর্জ খলিফার লেজারের রশ্মি।