বাংলাদেশকে হারানো স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল আফগানিস্তান

এবার মুজিব উর রহমান ও রশিদ খানের স্পিন ঘূর্ণিতে উড়তে থাকা স্কটল্যান্ডকে টেনে নিচে নামালো আফগানিস্তান। আফগানদের রানের পাহাড়ের সামনে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশকে হারানো স্কটল্যান্ডের তরীর। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ১৩০ রানে জিতে নিয়ে এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আফগানরা। সেই সাথে বিশ্বকাপে আফগানদের সবচাইতে বড় জয় আর বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বড় জয়।

এদিকে দেশের এমন দুঃসময়ে জয়টা আফগানিস্তানের জন্য ভীষণ প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই টসে জিতে ব্যাটিংয়ে মোহাম্মদ নবির দল। দুই ওপেনার হজরতুল্লাহ জাজাই এবং মোহাম্মদ শেহজাদ প্রথম ওভারটা দেখেশুনে খেললেও পর বিপক্ষেরের ওভার থেকেই স্কটিশ বোলারদের ওপর শুরু করেছেন তান্ডব।

তিন বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রত্যাবর্তনটা খারাপ হয়নি শেহজাদের। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারটাতে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে দুই চার এবং এক ছয়ে করেছেন ১৫ বলে ২২ রান। প্রথম ছয় ওভারেই আফগানদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৫৫। দশ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৮২; দশম ওভারের পঞ্চম বলটাতে তিন চার এবং তিন ছয়ে ৪৪ রান করে ড্রেসিং রুমে ফিরেছেন জাজাই।

মোহাম্মদ নবি বলেছিলেন, এইমুহুর্তে তাদের দেশের মানুষদের মাঝে সুখ বলতে যদি কিছু থাকে তাহলে সেটা ক্রিকেট। তাই, জয়ের মাধ্যমে পুরো দল এনে দিতে চান দেশবাসীর মুখে হাসি। সেই লক্ষ্যেই এগিয়েছে আফগানিস্তান। জাজাই ফিরে যাওয়ার পরে ইনিংসটাকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটা খুব ভাল করেই করেছেন দুই ব্যাটসম্যান নাজিবুল্লাহ জাদরান-রহমতুল্লাহ গুরবাজ। দুজনের ব্যাট থেকে তৃতীয় উইকেট জুটিতে এসেছে ৮৭ রান। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে রহমতুল্লাহ প্যাভিলিয়নে ফিরলেও, অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন নাজিবুল্লাহ। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে করেছেন ৫৯ রান।

নির্ধারিত বিশ ওভার শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ চার উইকেটে ১৯০ রান। মোহাম্মদ নবি করেছেন অপরাজিত ১১* রান। স্কটল্যান্ডের হয়ে সাফিয়ান শরিফ নিয়েছেন ৩৩ রানে ২টি উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছি দুই স্কটিশ ওপেনার জর্জ মুন্সি ও কাইল কোয়েটজার। ম্যাচের ৪ ওভার অব্দি সব ঠিকঠাকই ছিলো। এরপরই আসে মুজিবের বোলিং তাণ্ডব। তার বোলিংয়ের সামনে স্কটিশ ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিল শুরু হয়। এক পর্যায়ে দলের ৫০ রান পেরুতেই নেই ৭ উইকেট।

এদিকে ৪ ওভার বল করে মাত্র ২০ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন মুজিব। তার এই কীর্তি বিশ্বকাপে প্রথম আফগান বোলার হিসেবে। ৫ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি। অন্যদিকে বোলিং জাদু দেখিয়েছেন রশিদ খানও। তিনিও স্পিন ভেলকি দেখিয়েছেন। মাত্র ৯ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। শেষ অব্দি ৬০ রানেই অলআউট হয়েছে স্কটিশরা।