বাংলাদেশ যা পারেনি তাই করে দেখাল পাকিস্তান

গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ২ টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে একটি খেলা দুপুরে বাংলাদেশ বনাম উইন্ডিজের মধ্যকার। সে ম্যাচে শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাকি ছিল ১৩ রান। আন্দ্রে রাসেলের করা সেই ওভারের প্রথম পাঁচ বলে আফিফ হোসেন ধ্রুব ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মিলে নিতে পারেন ৯ রান। ফলে সমীকরণ নেমে আসে শেষ বলে ৪ রানে। রাসেলের করা ব্লক হোল ডেলিভারিতে ব্যাটই ছোঁয়াতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ।

যে কারণে আরও একবার তীরের কাছাকাছি গিয়ে তরী ডুবেছে বাংলাদেশ দলের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে এই ৩ রানের পরাজয়ে সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। একদম কাছাকাছি পৌঁছেও ম্যাচ শেষ করতে না পারার দায়টা নিজের কাঁধেই নিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। এই ম্যাচটি বাংলাদেশ হারলেও দিনের ২য় ম্যাচে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে পাকিস্তানি ব্যাটার আসিফ আলি।

চাপের মুখেই জ্বলে ওঠেন, আর তখন যেন ছক্কা ছাড়া তিনি কিছুই বোঝেন না- আসিফ আলির ব্যাপারটা যেন এমনই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঝড়ো ব্যাটিংটা টেনে আনলেন আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষেও। লং অফ, ডিপ মিড উইকেট, স্ট্রেইট হিট, ডিপ কাভার- চার এলাকা দিয়ে চারটি ছক্কা মেরে এক ওভার আগেই পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটের জয়ের স্বাদ এনে দিলেন আসিফ। মাত্র ৭ বলের ইনিংসে ২৪ রান করে, ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে হলেন ম্যাচ সেরাও।

গতকাল দুবাইয়ে আসিফ আলি যখন ব্যাট করতে নামলেন, তখন পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩ ওভারে ২৬ রান; কিন্তু আফগান পেসার নাভিন-উল হকের ওভার থেকে পাকিস্তান নিতে পারে মাত্র ২ রান, সেখানে আবার তারা হারায় অভিজ্ঞ ব্যাটার শোয়েব মালিকের উইকেট। ২ ওভারে ২৪ রান। ম্যাচ যখন পেন্ডুলামের মত দুলছিল, ঠিক তখন করিম জানাতের করা প্রথম বলে লংঅফের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন আসিফ। দ্বিতীয় বলে ডট, তৃতীয় বলে ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা, চতুর্থ বলে আবার ডট।

এদিন ৬,০,৬,০- আফগান পেসারকে যেনো অঙ্কের ধারা শেখাচ্ছিলেন আসিফ। পঞ্চম বলে বল আবারও সীমানার ওপারে, এবারের এলাকা সাইটস্ক্রিন। ওভারের শেষ বলে সেই ধারা ভেঙে ডিপ কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে এক ওভার হাতে রেখেই দলকে এনে দেন ৫ উইকেটের জয়। আসিফের চার ছক্কায় পাকিস্তান শুধু জয়ই পায়নি টানা তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে তারা। সে সঙ্গে সেমিতে এক পা দিয়েও রেখেছে বাবর আজমের দল।