বৃদ্ধ বাবাকে লাথি মারলেন স্কুল শিক্ষক ছেলে, গ্রেপ্তার করলো পুলিশ

গতকাল সকালে চাটমোহর উপজেলায় উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক অফিসে ঢুকে বৃদ্ধ বাবাকে মারধর করেছেন। বাবাকে লাথি মারাসহ লাঞ্ছিত করার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাতে ভুক্তভোগী বাবা আতাউর রহমান বাদী হয়ে চাটমোহর থানায় মামলা করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ছেলে মজনুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

জানা গেছে, চাটমোহর সরকারি আরসিএন অ্যান্ড বিএসএন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মজনুর সকালে তার বাবা আতাউর রহমানের চাকরিস্থল মহেলা ডাকঘরে যায়। এ সময় ডাকঘরে ঢুকে বাবাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে অফিসের কাগজপত্র তছনছ করে ডাকঘরের মোবাইল ফোনটি বাবার কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেন। ওই সময় বাবাকে মারধর করেন ছেলে।

এর পরে মোবাইল ফোনটি নিয়ে মোটরসাইকেলে উঠতে চাইলে বাবা বাধা দেন। তখন তিনি বাবাকে ডান পা দিয়ে লাথি মারেন। এ সময় বাবার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিও হয়। পরে আশপাশের লোকজন এসে মজনুরকে পিটুনি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। এ ঘটনার পর আতাউরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ মজনুরকে ধরে থানায় নিয়ে আসে। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উভয়ই থানায় অবস্থান করেন। পরে ছেলের নামে মামলা করেন বাবা।

এদিকে ‘চেতনায় চাটমোহর’ নামে ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ছেলের বিরুদ্ধে শুরু হয় মন্তব্য। তারা লেখেন, শিক্ষক যদি এমন হয় তাহলে ছাত্রছাত্রীদের কী শিক্ষা দিবে? এই শিক্ষকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অবিলম্বে বিতাড়িত করা হোক। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী বাবা আতাউর রহমান বলেন, এমনভাবে আমাকে ছেলে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে যে বাধ্য হয়েই আইনের দারস্থ হয়েছি।

এ ব্যাপারে চাটমোহর সরকারি আরসিএন অ্যান্ড বিএসএন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম বলেন, বিষয়টি খুবই লজ্জাকর ও দুঃখজনক। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়।

এদিকে চাটমোহর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছেলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈকত ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তার বাবা অভিযোগ দিয়েছেন। মামলার কাগজপত্র হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি শিক্ষক সমাজের জন্য বিব্রতকর বলে জানান তিনি।