মার্শেইয়ের বিপক্ষে পারলো না পিএসজি

এবার লিগ ওয়ানে মার্শেই-পিএসজি দৈরথ সবসময়ই আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। শক্তি-সামর্থ্যে পিএসজির চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না মার্শেইও। আরও একবার উত্তেজনাকর এই লড়াইয়ের সাক্ষী হলো গোটা ফুটবল বিশ্ব। যেখান থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পেরে নিজেদের ভাগ্যবানও ভাবতে পারে মাউরিসিও পচেত্তিনোর দল।

এদিকে দুই ম্যাচ পর নেইমার ফেরায় পূর্ণ শক্তির আক্রমণভাগ নিয়ে মাঠে নামে পিএসজি। সেই সাথে আনহেল ডি মারিয়া থাকায় আক্রমণে যোগ হলো বাড়তি রসদও। ম্যাচে দারুণ কিছু সুযোগও তৈরি করে প্যারিসিয়ানরা; কিন্তু পারল না ব্যবধান গড়ে দিতে।

উল্টো ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। শেষের অনেকটা সময় রক্ষণ আগলে রেখে মূল্যবান একটি পয়েন্ট নিয়ে ফেরে পিএসজি। লিগ ওয়ানে ডার্বি ম্যাচে রবিবার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে গোলশূন্য ড্র করে ফিরেছে পিএসজি। চেনা আঙিনায় প্রথম পাঁচ মিনিটেই দুটি সুযোগ পায় মার্শেই। কিন্তু পারেনি কাজে লাগাতে। এরপর শুরু হয় পিএসজির মুহুর্মুহু আক্রমণ।

ত্রয়োদশ মিনিটে নেইমারের গোলমুখে বাড়ানো বল এমবাপের পায়ে যাওয়া ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়ান ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার লুয়ান পেরেস। যদিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয় সেই গোল। খানিক পর পিএসজির জালে বল পাঠিয়ে উল্লাসে মাতেন মার্সেইয়ের আর্কিদিউস মিলিক। তবে ভিএআরে তাদের আনন্দও মাটি হয়ে যায়; বাজে অফসাইডের বাঁশি।

পরের ১৫ মিনিটে একচেটিয়া চাপ ধরে রেখে অনেক সুযোগ তৈরি করে পিএসজি। কিন্তু ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় বারবার হতাশ হতে হয় দলটির তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগকে। ২৬তম মিনিটে কাছ থেকে মেসির লাফিয়ে নেওয়া হেড কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক। এরপর এমবাপের দুটি শট প্রতিহত হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের দ্বাদশ মিনিটে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খায় পিএসজি। ডি-বক্সের মুখে প্রতিপক্ষের উইঙ্গার উন্দেরকে পেছন থেকে ফেলে দিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি। এতে জমজমাট লড়াইয়ে স্বাগতিকদের রক্ষণ কিছুটা উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।

সেই সুযোগে দারুণ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে মার্শেই। কিন্তু মিলছিল না জালের দেখা। ৬৫তম মিনিটে দিমিত্রি পায়েতের ক্রসে ভেঁলোতার হেড একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরের ১২ মিনিটে আরও তিনটি ভালো সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

৮৩তম মিনিটে মেসির মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো থ্রু বল খুঁজে পায় এমবাপেকে। ডি-বক্সে প্রায় ঢুকেই পড়েছিলেন ফরাসি তারকা, দারুণ ট্যাকলে দলকে বিপদমুক্ত করেন স্বাগতিকদের এক ডিফেন্ডার। বাকিটা সময়ে পিএসজি খেলার গতি কমিয়ে দেয়, যেন একটি পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট তারা।

এদিকে এই ড্রয়ের পরও লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানে এখনও বেশ মজবুত পিএসজির দখল। ১১ ম্যাচে ৯ জয় ও ১ ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ২৮। ৭ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে লঁস। এক ম্যাচ কম খেলা নিস ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে। তাদের সমান ১০ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে মার্সেই।