মোহাম্মদ সালাহ’র হ্যাটট্রিকে উড়ে গেল রোনালদোর ম্যান ইউ

রাতে ম্যাচের ৬০ মিনিটে লাল কার্ড দেখে বের হচ্ছিলেন ম্যান ইউ সুপারস্টার পল পগবা। কিন্তু তাতেও কিছু আসে যায় না। কারণ, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে লিভারপুল তখন ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে! কিছুক্ষণ আগেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ফেলেছেন মোহাম্মদ সালাহ।

এদিকে মোহাম্মদ সালাহ এই মৌসুমে যে ভীনগ্রহের ফুটবল খেলছেন, তাতে ইউনাইটেডের জন্য তাকে সামলানোর কাজটি কঠিন বা মহাকঠিনই হতে যাচ্ছে সেটি ম্যাচের আগেই আন্দাজ করা যাচ্ছিলো। তবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচ কবে এতোটা একপেশে হয়েছে, কবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এতোটা নাকাল, নাজেহাল হয়েছে ইউনাইটেড, সেটি আসলে গবেষণার বিষয়।

ম্যাচের ৫ মিনিটেই দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নাবি কেইতার গোলে ইউনাইটেডের কফিনে প্রথম পেরেক ঠোকে লিভারপুল। অ্যাসিস্ট করেন মোহাম্মদ সালাহ। ১৩ মিনিটে ইউনাইটেড অধিনায়ক ম্যাগুয়েরে ও উইংব্যাক লুক শ’র হাস্যকর ভুলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডিওগো জোতা। প্রথম দুইজন গোলদাতার অ্যাসিস্টেই ৩৮ ও প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোল করেন মোহাম্মদ সালাহ। প্রথমার্ধেই ৪ গোলে পিছিয়ে পড়ে ইউনাইটেড।

প্রথমার্ধে তাও রোনালদো গ্রিনউডরা সৃষ্টি করছিলেন টুকটাক সুযোগ। তবে চার গোলে পিছিয়ে পড়ে ‘কামব্যাক কিং’দের দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে আসার ন্যুন্যতম আশাও যে শেষ হয়ে গেছে, তা দ্বিতীয়ার্ধে ইউনাইটেড খেলোয়াড়দের মলিন, হতশ্রী চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছিলো। এর মাঝে ৫১ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।

এরপর ইউনাইটেডের সম্মান সামান্য ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে আজ যেন ইউনাইটেডের ভাগ্যেই লেখা ছিলো বঞ্চনা। ভিএআরে বাতিল হয় তাঁর গোলটি। কিছুক্ষণ পর নাবি কেইতাকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন পগবা। বাকি ৩০+ মিনিট যে আর কোন গোল খায়নি ইউনাইটেড, এইটুকু কৃতিত্ব ছাড়া বোধহয় আর কিছু নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারবে না তারা।