সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ

ইমান আনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় নামাজ সব অশ্লীল ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সূরা আনকাবুত, আয়াত-৪৫) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রসুল (সা.)কে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন আমল আল্লাহতায়ালার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়? রসুল (সা.) বললেন, ‘নামাজ’। (বুখারি শরিফ, হাদিস নং-৫২৬ ও নাসায়ি শরিফ, হাদিস নং-৬১১) আল্লামা মোল্লা আলী কারী (রহ.) বলেন, আলেমগণের মতে, এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ‘ইমানের পরে নামাজই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল। কারণ এই নামাজই মানুষকে সব অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ এ কথা শুনে কারও মনে প্রশ্ন হতে পারে, আমরা দেখি অনেক মানুষ নামাজ পড়ে, আবার অশ্লীল কাজেও জড়িত থাকে। তাহলে নামাজ কীভাবে সব অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখল? এ প্রশ্নের উত্তর হলো, তাদের নামাজ ঠিকভাবে আদায় হচ্ছে না। যেভাবে নামাজ পড়া দরকার ছিল সেভাবে পড়া হচ্ছে না। অর্থাৎ তার সূরা-কেরাত, পবিত্রতা কিংবা উপার্জনের মাঝে কোনো সমস্যা থাকতে পারে। যদি সত্যিকারে সে নামাজ ঠিকঠাকভাবে পড়ত, তাহলে নামাজ অবশ্যই তাকে অশ্লীল ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখত।

হজরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, এক ব্যক্তি রসুল (সা.)-এর দরবারে এসে বললেন, অমুক ব্যক্তি রাতে নামাজ পড়ে, সকালে চুরি করে। এ কথা শুনে রসুল (সা.) বললেন, অচিরেই তার নামাজ তাকে সব অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখবে। যখন সে সঠিক পন্থায় নামাজ আদায় করবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৯৭৭৭) কথিত আছে, আগেকার যুগে মানুষ শয়তানকে দেখতে পেত। তখন এক ব্যক্তি শয়তানকে বলল, তুমি আমাকে এমন কোনো পন্থা শিখিয়ে দাও, যা করলে আমি তোমার মতো হতে পারব। শয়তান বলল, এমন আবদার তো এ পর্যন্ত কেউ করেনি। লোকটি বলল, আমার ইচ্ছা হয় তোমার মতো হতে। তাই জিজ্ঞাসা করেছি। শয়তান বলল এর পন্থা হলো, তুমি নামাজে অবহেলা করবে এবং সত্য-মিথ্যা কসম খেয়ে কথা বলতে কোনো পরোয়া করবে না। তখন লোকটি বলল, আমি আল্লাহর সঙ্গে ওয়াদা করছি যে, আমি জীবনে কোনো দিন নামাজ ছাড়ব না। কোনো বিষয়ে কসম খাব না। এ কথা শুনে শয়তান বলল, আজ পর্যন্ত চালবাজি করে তুমি ছাড়া কেউ আমার থেকে এ ধরনের কথা নিতে পারনি। আমিও ওয়াদা করছি যে, মানুষকে আর কখনো ভালো উপদেশ দিব না। (ফাজায়েলে আমল) আল্লামা ইবনে সীরীন (রহ.) বলেন, যদি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করা এবং দুই রাকাত নামাজ পড়ার মাঝে ইখতিয়ার দেওয়া হয়, তাহলে আমি দুই রাকাত নামাজ পড়াকেই গ্রহণ করব। কেননা, জান্নাতে প্রবেশ করা তো আমার নিজের খুশির জন্য। আর দুই রাকাত নামাজ হলো আমার মালিকের খুশির জন্য। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা গুনাহ মাফ করে দেন। হাদিসে আছে, রসুল (সা.) একবার শীতকালে বাইরে গেলেন।

তখন গাছ থেকে পাতা ঝরার সময় ছিল। রসুল (সা.) গাছের একটি ডাল ধরে নাড়া দিলেন। গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়ল। তখন তিনি বললেন, হে আবু যর! আবু যর (রহ.) বলেন, আমি হাজির হে আল্লাহর রসুল! তখন রসুল (সা.) বললেন, মুসলমান বান্দা যখন আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য নামাজ পড়ে, তখন তার গুনাহগুলো এমনিভাবে ঝরে পড়ে, যেমন এই গাছের পাতা ঝরে পড়ল। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-২১৫৯৬)।