স্কুলছাত্রকে লাথি মেরে চলন্ত বাসের ফেলে হত্যা, মহাসড়ক অবরোধ

আজ বিকেলে বেলাবতে বাস থেকে আতিকুল ইসলাম (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রকে লাথি মেরে চলন্ত বাসের চাকার নিচে ফেলে হত্যার অভিযোগে বিক্ষোভ ও ঢাক-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বারৈচা বাসস্ট্যান্ডে শত শত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী উপস্থিত হয়ে এ বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করে।

এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে সৃষ্টি হওয়া যানজটে দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর বুধবার রাতে স্কুলছাত্র আতিকুল ইসলাম ও তার সহপাঠীরা নরসিংদী থেকে যাতায়াত পরিবহনের বাসে করে বাড়িতে আসার পথে গাড়ির চালক, কন্ডাক্টর ও হেলপারের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। রাত সাড়ে ৯টায় বাসটি উপজেলার চরউজিলাব ইউনিয়নের বারৈচা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে গাড়ির ভিতর থেকে আতিকুল ইসলামকে লাথি মেরে ফেলে দেয় গাড়ির কন্ডাক্টর ও হেলপার। এ সময় চালক আতিকুলের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় ভৈরব হাইওয়ে পুলিশ বাসটি আটক করে।

এদিকে নিহত আতিকুল ইসলাম পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে ও উত্তর বাখরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আতিকুলের সহপাঠী ও শত শত এলাকাবাসী বারৈচা বাস্ট্যান্ডে এসে দোষী বাসড্রাইভার ও তার সহকারীদের বিচার, বারৈচাতে ফুটওভার নির্মাণ ও নিহত স্কুলছাত্রের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। এসময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে ভৈরব হাইওয়ে থানা পুলিশ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের দাবির সঙ্গে একমত হয়ে মহাসড়কের বিক্ষোভ ও অবরোধ তুলে দিতে অনুরোধ করেন। বিকেল সাড়ে ৫টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিল।

এ খবর পেয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের দাবির ব্যাপারে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিলেও বিক্ষোভকারীরা তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। পরে বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার হোসেন শাহিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রায়পুরা বেলাব সার্কেল ও বেলাব থানা ওসি মো. শাফায়েত হোসেন পলাশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আতিকুলের সহপাঠীরা জানান, মাত্র পাঁচ টাকার জন্য ঘাতক ড্রাইভার ও তার সহকারীরা আতিকুলকে বাস থেকে ফেলে চাকায় পিষ্ট করে হত্যা করে। সিসিটিভি ফুটেজে তার প্রমাণ মিলেছে। আমরা এ হত্যার বিচার দাবি করছি।

এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে থাকা ভৈরব হাইওয়ে থানার ওসি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় বেলাব থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। মামলা হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন শাহিন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। মহাসড়কটি সম্প্রসারিত করার সময় যাতে ওভারব্রিজ করে দেওয়া হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।