অবশেষে ইয়াবা কারবারিদের এলাকা ছাড়তে বললেন সাবেক সাংসদ বদি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ড্রাগ হলো এমন বস্তু যা গ্রহণ করলে ব্যক্তির এক বা একাধিক কার্যকলাপের পরির্তন ঘটায়। একটা ড্রাগের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নির্ভর করে তার রাসায়নিক গঠন বৈশিষ্ট্যের উপর। এই ড্রাগ অপব্যবহারের কারণে রোগী তার রোগের জন্য ওষুধের গুণাগুণ পাওয়ার বদলে হয়ে যায় বিষ।

নতুন খবর হচ্ছে, অবশেষে টেকনাফের ইয়াবা কারবারিদের এলাকা ছাড়তে বললেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি। যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা ইয়াবা তালিকায় ‘ইয়াবার মদদদাতা’ হিসেবে তাঁর নাম আছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় তাঁর (বদি) ছোট পাঁচ ভাইসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ ২৬ জনের নাম আছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত আটজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে ইয়াবাসহ আত্মসমর্পণ করে দেড় বছর কারাগারে থেকে সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় অবস্থান করছেন। তারপরও ইয়াবা চোরাচালান থেমে নেই। বরং আগের তুলনায় শতগুণ বেড়ে গেছে জানিয়ে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর প্রথম আলোকে বলেন, সাবেক সাংসদ যেখানে দাঁড়িয়ে ইয়াবাবিরোধী কিংবা ইয়াবা কারবারিদের এলাকা ছাড়তে বললেন, তাঁর (বদি) আশপাশে থাকা লোকজনই তো সেই কারবারে জড়িত। নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতেই বদির এই ঘোষণা বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

মঙ্গলবার রাতে টেকনাফ পৌরসভার ২, ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসলামের সমর্থনে পৃথক তিনটি সমাবেশ হয়। মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম সম্পর্কে বদির চাচা।

সমাবেশগুলোতে উপস্থিত নারী-পুরুষের উদ্দেশে সাবেক সাংসদ বদি ইয়াবা কারবারিদের এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘পৌর নির্বাচনের আগে যদি ইয়াবা কারবারিদের কাউকে রাস্তাঘাটে সামনে পাই, খবর আছে। নৌকার বিপক্ষের কাউকে মাঠে পাওয়া গেলে তখন করার কিছুই থাকবে না।’ এ বিষয়ে উপস্থিত অভিভাবকদেরও সতর্ক করেন বদি। সমাবেশ থেকে বদির এই বক্তব্য ফেসবুক লাইভ করা হয়। চতুর্থ ধাপে আগামী ২৬ ডিসেম্বর এই পৌরসভার ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা। পৌরসভার ভোটারের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৫।

দলীয় সূত্র জানায়, টেকনাফ পৌরসভার মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে চারজনের নামের তালিকা পাঠায় জেলা আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর, টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাভেদ ইকবাল চৌধুরীর নামও ছিল। কিন্তু তৃতীয়বারের মতো দলের মনোনয়ন পান মোহাম্মদ ইসলাম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা, ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকা, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মদদদাতা, লোকজনকে মারধরসহ নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাননি বদি। কিন্তু দলের মনোনয়ন পান বদির স্ত্রী শাহীন আক্তার। চাচা মোহাম্মদ ইসলামকে বিজয়ী করতে বদি আগেভাগে মাঠে নেমেছেন।