অবশেষে সিগারেট খাওয়া ছাড়লেন শ্রীলেখা

সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে যে কয়জন অভিনেত্রী বিনোদন প্রেমীদের হৃদয়ের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন তাঁর মধ্যে শ্রীলেখা অন্যতম। এই পর্যন্ত ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আলোচনায় এসেছেন বহুবার।

নতুন খবর হচ্ছে, নিজের মর্জি মতোই চলেন তিনি। কলকাতার চলচ্চিত্রে অন্যতম ঠোঁটকাটা ব্যক্তিত্ব হিসাবেই পরিচিত শ্রীলেখা মিত্র। মাঝেমধ্যেই বেফাঁস মন্তব্য করে বিতর্কেও জড়ান অভিনেত্রী। কিন্তু সেইসব নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নন তিনি। এবার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন শ্রীলেখা। ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক, এতে ক্যানসার হয়’, ছবির শুরুতে প্রতিদিন এই বাণী সকলেই দেখেন বা পড়েন, কিন্তু ধূমপান ছাড়বার কথা ভাবতেই পারেন না এতে আসক্ত মানুষজন।

তবে এই বদ অভ্যাস চিরতরে ছাড়তে চাইছেন শ্রীলেখা। এদিন অভিনেত্রীর আচমকা উপলব্ধি ‘আর সিগারেট খাব না’। তবে পাশাপাশি ফেসবুকের ওয়ালে শ্রীলেখা এটাও স্পষ্ট করেন তাঁর সিগারেটের প্রতি আসক্ত হওয়ার সঙ্গে শোবিজ দুনিয়ার কোনও যোগ নেই। কলেজ জীবন থেকেই ধূমপানের প্রতি ঝুঁকে পড়েছিলেন তিনি। এত বছর পর মুক্তি চান সেই খারাপ অভ্যাস থেকে।

কিন্তু আচমকা কেন এই সিদ্ধান্ত? এক সাক্ষাত্কারে শ্রীলেখা জানালেন, ‘কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। সারাক্ষণ গলায় অদ্ভূত অস্বস্তি। দম নিয়েও সমস্যা হচ্ছে। সারাক্ষণ বুকে যেন চাপ ধরা ভাব’। চিকিত্সকের কাছে গেলে সবার প্রথম যে ধূমপানে নিয়ন্ত্রণ আনবার কথা বলা হবে তা ভালোভাবেই জানেন শ্রীলেখা তাই নিজে থাকতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিন নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ডের ওয়ালে শ্রীলেখা লেখেন, ‘সিগারেট ছাড়তে চাই। এই ব্যাড হ্যাবিট-টা আমার কলেজের দিনে, না সিনেমায় এসে সিগারেট ধরিনি। বাবার কাছে বকুনি সাথে এক দুবার মারও খেয়েছি। মোগাম্বোর মতো ছিল বাবা তখন। সেই বাবা আবার আমার কাছ থেকে সিগারেট চুরি করেও খেয়েছিল, এইরকম রিলেশন ছিল আমাদের। কিন্তু সত্যি এবার ছাড়ব… ছাড়বই’।

তিনি আরও জানান, ‘অনেক সুখ-অসুখ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, বেড়ে উঠা, বুড়ো হয়ে উঠা- সবটা জুড়ে তুমি ছিলে, আছো এখনো, তবে এবার তোমার মায়া ত্যাগ করতেই হবে… দুটোই বড় কষ্টের সিগারেট, বোঝোতো… সবই মায়া’।