আজও চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের সমর্থন নেই

বাংলাদেশ-পাকিস্তান খেলা মানেই টানটান উত্তেজনা। খেলা মাঠে কোন দলই হার মেনে নিতে চায়না তবে শেষ হাসি হাঁসতে হয় যে কোন এক দলকেই।

নতুন খবর হচ্ছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ করেই বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান দল। বরাবরই এই দেশে পাকিস্তানের সমর্থক আছে। আটকে পড়া পাকিস্তানিরা ছাড়াও বাঙালিদের একটা বড় অংশ পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়। খেলার বাইরে রাজনৈতিকভাবেও তারা এখনো পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখে। মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের নির্যাতন-গণহত্যার ইতিহাস তারা এড়িয়ে যায়। টি-টোয়েন্টি সিরিজে মিরপুর শেরে বাংলার গ্যালারিতে তাই দেখা গিয়েছিল পাকিস্তানের সমর্থন দেওয়া বাংলাদেশিদের।

রীতিমতো পাকিস্তানের পতাকা উড়িয়ে, গালে পাকিস্তানের পতাকা এঁকে তারা গ্যালারিতে গিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে গলা ফাটায়। বাংলাদেশের পরাজয়ে উল্লাস করে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই দৃশ্য মিডিয়ায় প্রচার হলে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। তরুণদের কিছু সংগঠন শেরে বাংলায় পাকিস্তানের বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়। এতেই শেষ টি-টোয়েন্টিতে শেরে বাংলার গ্যালারিতে প্রকাশ্যে কোনো পাকিস্তানি সমর্থক দেখা যায়নি। মিরপুরের উল্টো দৃশ্য দেখা গেল এবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।

সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরুর দিন গতকাল থেকেই জহুর আহমেদের গ্যালারিতে পাকিস্তানের সমর্থক দেখা যায়নি। এক যুবক পাকিস্তানের জার্সি গায়ে গ্যালারিতে ঢোকার চেষ্টা করলে জনতা তাকে ধাওয়া দিয়ে নর্দমায় নিয়ে ফেলে। পরে সেই যুবক কানে ধরে আর কোনোদিন পাকিস্তানকে সমর্থন করবেন না অঙ্গীকার করে ক্ষমা চান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাগরিকা স্টেডিয়ামের গেটগুলোতেও ‘দেশদ্রোহী’দের প্রতিহত করার কর্মসূচি পালন করছে কিছু দেশপ্রেমিক তরুণ। তাদের তৎপরতার কারণে জহুর আহমেদের গ্যালারিতে ওড়েনি পাকিস্তানের পতাকা।