আমি কি খাঁচার বাঘ, যে ছেড়ে দিলে তাদের খেয়ে ফেলবো: মুশফিক

বাংলাদশের ক্রিকেটকে আজকের এই উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে আসতে যে কয়জন ক্রিকেটার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁর মধ্যে মুশফিক অন্যতম। এই পর্যন্ত অনেক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এই তারকা ক্রিকেটার।

নতুন খবর হচ্ছে, সোজা কথায় পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়েছেন মুশফিকুর রহিম। দল থেকে বাদ পড়ায় আক্ষেপ নেই মুশফিকের মনে। হাসি মুখে মেনে নিয়েছেন। তবে কিছু বিষয় নিয়ে মুশফিকের আক্ষেপ আছে। কেন এমনটি তাঁর সাথে হয় তিনি নিজেও জানেন না।

এক সাক্ষাৎকারে হাজির হন মুশফিক। তাকে প্রশ্ন করা হয়…

সেরকমই একটি শট তো স্কুপ। কিন্তু আপনার এই শট নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। অনেক সময়ই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই শটে আউট হয়েছেন..

মুশফিক: গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আউট হলে… আউটের অনেক ধরন থাকতে পারে। আমার এটা ‘গো টু’ শটগুলির একটি। এটা বলতে পারেন যে ওই সময় হয়তো অমন খেলা উচিত হয়নি। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, নিজেদের ‘গো টু’ শট যদি আমি চেষ্টা করলে আমারই সুযোগ বেশি থাকবে। আমার যদি ‘গো টু’ শট থাকত জস বাটলারের মতো ডাউন দা উইকেট গিয়ে সোজা ছক্কা মারা, তাহলে আমি সেটাই চেষ্টা করতাম।

বাটলারের মতো ব্যাটসম্যান যদি সেমিফাইনালে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হয়, তাহলে তো তাকে দলে রাখাই উচিত না! সে চাইলেই তো মিচেল স্টার্কের মতো বোলারকে ১০০ মিটার লম্বা ছক্কা মারতে পারে। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল একবার শামসির বলে বোল্ড হলো রিভার্স খেলে, তার পর আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ডিপে ফিল্ডার দেখার পরও একই শট খেলতে গিয়ে আউট হলো। ওর তো দরকার ছিল না!

এটা একটা সংস্কৃতিরও ব্যাপার। কেউ ওই শটে অনেক রান করবে, আবার অনেক আউটও হবে। তার মানে এই নয় যে ওই শট খেলা যাবে না বা আউট হলে পরেরবার খেলা যাবে না। ড্রেসিং রুমের ভেতরে-বাইরের সংস্কৃতি এখানে বড় ব্যাপার। ওই নিজেদের ‘গো টু’ শটে তাতের আস্থা আছে। লেগে গেলে ভালো, না লাগলেও সমস্যা নেই। কারণ, সে জানে, অনুশীলনে সে এটা হাজার-লাখ-কোটিবার খেলেছে স্রেফ ম্যাচে করার জন্যই।

টি-টোয়েন্টির অন্য স্কিলও আছে। আমাদের দেশে হয়তো ওসবের কদর হয় না অতটা। কিন্তু অনেক স্কিল আছে।

নির্বাচকদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বললেন। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগেও যোগাযোগের ঘাটতির কারণে আপনি খেলতে পারেননি। অনেক সময়ই শোনা যায় যে, আপনাকে তারা অনেক কিছু বলতে সঙ্কোচ করেন…

মুশফিক: আমি কি খাঁচার বাঘ, যে আমাকে ছেড়ে দিয়েছে, এখন আমি তাদেরকে বা অন্যদেরকে খেয়ে ফেলব?

আমার অভিষেক হয়েছে সুমন ভাইয়ের (নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার) অধিনায়কত্বে। এখন উনি যদি বলতে না পারেন ছোট ভাইকে কোনো কথা… শুধু উনি কেন, আকরাম ভাই, নান্নু ভাই, উনারা বিকেএসপিতে খেলতে গিয়েছিলেন, আমরা বল থ্রো করেছিলাম, তখন আমাদের জন্য স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার ছিল। এখন তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারছি। এখানে যদি উনারা কথা বলতে না পারেন আমার সঙ্গে… আমি তো সবসময়ই ওয়েলকাম করি।