কাতার বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম হলেন বাংলাদেশের আশরাফুল

ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি। এর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় ভিত্তি হলো নামাজ। নামাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে মহান রব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন করার জন্য মুসলমানের প্রতি মিরাজের উপহার।

নতুন খবর হচ্ছে, কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সহকারি ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হাফেজ মাওলানা আশরাফুল হাসান সাকি। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) ইশার নামাজ পড়ানোর মাধ্যমে তিনি ইমামের দায়িত্ব শুরু করেন।

আশরাফুল হাসানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছর তিনি কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি বৃত্তিতে এক বছর মেয়াদী আরবি ভাষা কোর্সে পড়াশোনার সুযোগ পান। ১৩৫টি দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনি বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত হন।

এর আগে আশরাফুল চট্টগ্রামের জামিয়া দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চতর আরবি ভাষা ও ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার সন্তান আশরাফুলের বাবা মাওলানা মাহমুদুল হাসন। তাঁর দাদা মাওলানা নজির আহমদ (রহ.) ছিলেন স্থানীয় প্রবীণ আলেম। উচ্চশিক্ষায় প্রেরণা যুগিয়েছেন তাঁরই চাচা প্রবীণ লেখক ও হাদিস গবেষক মাওলানা ড. হারুন আজিজি নদভি।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সহকারি ইমাম হিসেবে নিয়োগ পেয়ে সবার দোয়া কামনা করেন আশরাফুল হাসান। তিনি বলেন, ‘দেশের বাইরে পড়াশোনা করতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশের মতো নয়। এজন্য সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার শ্রদ্ধেয় বাবা-মা, প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ ও প্রিয় চাচার মমতাপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও সুপরামর্শ আমার জীবনপথের পাথেয়। বিশেষত এতদূর আসার পেছনে শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় বড় ভাই মাওলানা আবু তালেব ভাইয়ের সহায়তা কোনো দিন ভুলবার নয়। মহান আল্লাহ সবাইকে উত্তম বিনিময় দান করুন।’