‘চাকরি বাঁচানোর উল্লাস’ প্রিন্স-ডমিঙ্গোর

অবশেষে রঙ্গিন পোশাকে রানখরা কাটিয়ে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন লিটন কুমার দাস। দলের সবচেয়ে নান্দনিক এই ব্যাটার খুব খারাপ সময় কাটাচ্ছিলেন। ফর্মহীনতার কারণে তার পরিবারকেও আক্রমণ করেন এক শ্রেণির সমর্থক। আর সেই লিটন যখন গতকাল অসাধারণ সেঞ্চুরিটা করলেন, তখন আনন্দে ফেটে পড়ে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম। বিশেষ করে কোচিং স্টাফের আনন্দ ছিল দেখার মতো।

গতকাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে উল্লাস করছিলেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স এবং কোচিং স্টাফের বাকিরা। ডমিঙ্গো তো মহানন্দে হাত ছুড়ছিলেন। প্রিন্সও তাই। এই দৃশ্য দেখে সোশ্যাল সাইটে শুরু হয় হাসি-ঠাট্টা। ক্রিকেটপ্রেমীরা বলতে থাকেন, লিটনের সেঞ্চুরিতে চাকরিটা বেঁচে গেল ডমিঙ্গোর। চাকরি বাঁচানোর আনন্দেই তিনি ওভাবে লাফিয়েছেন! উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ডমিঙ্গোর চাকরি এখন যায় যায় অবস্থা।

আর এই হাসিঠাট্টার বিপরীতে আছে তেতো সত্য কথা। সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বাতিল কোচগুলোকে এনে বাংলাদেশ দলে ‘রিহ্যাব সেন্টার’ বানানো হয়েছে। ডমিঙ্গো নিজেও লো প্রোফাইল, তার নিয়ে আসা ব্যাটিং কোচ প্রিন্সও তাই। বাংলাদেশ দলের সিনিয়র বা জুনিয়র ব্যাটারদের কাছে প্রিন্স খুব একটা পাত্তা পান না। কারণ তার কাছ থেকে শেখার খুব বেশি কিছু পান না ক্রিকেটাররা।

এমন পরিস্থিতিতে ডমিঙ্গো-প্রিন্সের চাকরি কীভাবে আছে সেটাই বড় প্রশ্ন। গতকাল দিনের খেলা শেষে প্রিন্স বলেছিলেন, ‘আজ লিটন কতটা শান্ত এবং সর্তক ছিল, তা দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। সে সেঞ্চুরি পাওয়ায় ড্রেসিংরুমের সকলে খুবই খুশি।’

এখন প্রশ্ন হলো, ডমিঙ্গো-প্রিন্স যদি লিটনের এই সেঞ্চুরির ক্রেডিট নিজেদের দিকে নিতে চান সেটা নিতেই পারেন। তাহলে, লিটন-মুশফিকরা যখন ব্যর্থ হতে থাকেন, সেই দায়টাও তো তাদের নিতে হবে। তাই নয় কি? ক্রিকেটপ্রেমীরা তাই প্রশ্ন করছেন, ডমিঙ্গো-রাসেলরা দলের সেই বিপদের সময়গুলোতে দায় নিতে চান না কেন?