নিয়োগ না পেয়ে হকিস্টিক দিয়ে অধ্যক্ষের হাত ভেঙে দিল চাকরিপ্রত্যাশী

এবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষকে দলবল নিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে মাহিবুর রহমান নামে এক চাকরিপ্রত্যাশী। শুধু তাই নয়, অধ্যক্ষের বাগানের বিভিন্ন ধরনের গাছও কেটে দিয়েছে। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন হায়দার বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

এ ব্যাপারে মাদরাসার অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, কালাকচুয়া গ্রামের মো. মাহিবুর রহমান মহিব কালাকচুয়া ফাজিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করার জন্য বহু চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু সে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় চাকরি পায়নি। এ নিয়ে সে বিভিন্ন সময় আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে অধ্যক্ষ তার অফিসকক্ষে শিক্ষকদের নিয়ে মাদরাসার বিষয়ে আলোচনা করতে বসে। আলোচনা শেষে শিক্ষকরা চলে যাওয়ার পর চাকরিপ্রত্যাশী মহিবুর রহমান মহিব, তার ভাই মো. মাসুম ও মোস্তাকুর রহমানসহ তিন থেকে চারজনের একটি দল নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে চাকরির বিষয়ে জানতে চায়।

অধ্যক্ষ তাদের জানায় নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে চাকরি দেওয়ার সুযোগ নেই। এ সময় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষকে মারধর করতে থাকে। চাকরিপ্রত্যাশী মহিব হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে অধ্যক্ষের ডান হাত ভেঙে দেয়। এ সময় অধ্যক্ষের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যায়। যাওয়ার পথে মাদরাসার অদূরে অধ্যক্ষের বাগানে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় গাছ কেটে ফেলে তারা। পরে স্থানীয়রা অধ্যক্ষকে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।

এ ব্যাপারে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল হারেছ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মহিব একাধিকবার ওই মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তাই ক্ষোভ থেকেই অধ্যক্ষের ওপরে এ হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর পূর্বেও এই মাদরাসার আরবি প্রভাষক রুহুল আমিনকে মারধর করে অভিযুক্ত মহিব। বিচার না পেয়ে রাগে ক্ষোভে ওই প্রভাষক মাদরাসার চাকরি ছেড়ে দেয়।

এ ব্যাপারে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার রাতে মামলা হয়েছে।