‘নোয়াখালি বিভাগ চাই’ দাবিতে এবার প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন

নোয়াখালী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। নোয়াখালী জেলার মোট আয়তন ৪২০২.৭০ বর্গ কিলোমিটার। বরাবরই আলোচনায় থাকে জেলাটি।

নতুন খবর হচ্ছে, নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ করার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে নোয়াখালি বিভাগ বাস্তবায়ন সমন্বয়ক কমিটি। এছাড়াও কমিটির পক্ষ থেকে নোয়াখালি জেলার বিভিন্ন উপজেলাকে বিভাজন করে নতুন সাতটি উপজেলা গঠন এবং নতুন উপজেলাগুলোকে একত্রিত করে হাতিয়াকেন্দ্রিক নতুন জেলা গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। নোয়াখালীকে কোনোভাবে বিভাগ থেকে বঞ্চিত করা হলে অনতিবিলম্বে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন সংগঠনটির নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঐতিহ্যবাহী জেলা নোয়াখালীকে বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনের মূল পরিকল্পনাকারী খন্দকার মোশতাকের জন্মস্থান কুমিল্লাকে কোনোভাবেই যে কোনো নামে বিভাগ মেনে নেবে না বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নোয়াখালী। বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির শতকরা ৩৫ ভাগের কাছাকাছি নিয়ন্ত্রণ করে নোয়াখালী অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। সুতরাং নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণা না করা হবে বিমাতাসুলভ আচরণ।

মানববন্ধনে আরও বলেন, রাজধানী থেকে সড়কপথে কুমিল্লার দূরত্ব মাত্র ৮০/৮৫ কিলোমিটার, মাত্র ঘণ্টাখানেকের পথ। আর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা হতে রাজধানী দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার, আধা ঘণ্টার পথ। সুতরাং রাজধানীর এত কাছাকাছি জেলা কুমিল্লাকে বিভাগ করার কোনো সুযোগ নেই।

তাছাড়া কুমিল্লা থেকে মাত্র ছয়-সাত কিলোমিটার পূর্বে ভারতের ত্রিপুরার সোনামুড়া বাজার, ফলে ভৌগোলিকভাবে এবং কৌশলগত কারণেও কুমিল্লাকে কোনোভাবেই বিভাগ করা যায় না। মানচিত্রের এক কোণোয় অবস্থিত একটি পকেট জায়গাকে বিভাগ করার কোনোই সুযোগ নেই।

এসময় সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, বঙ্গপোসাগর বিধৌত বৃহত্তর নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণা করা হলে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে। দেশ-জাতি এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির দিকে। বঙ্গনেত্রী শেখ হাসিনা নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণা করবেন, এমন প্রত্যাশা এ অঞ্চলের কোটি মানুষের ।