পাড়া মহল্লার টেপ টেনিস থেকে জাতীয় দলে রাজা

বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র রাজা। এই পর্যন্ত অনেক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এই তারকা ক্রিকেটার।

নতুন খবর হচ্ছে, এক সময় পড়ার টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলে বেড়াতেন সিলেটের পাড়া-মহল্লায়। আর সেই বোলার এখন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন। হ্যাঁ বলছি, পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে জায়গা করে নিয়ে বাংলাদেশের পেসার রেজাউর রহমান রাজার কথা।

২২ বছর বয়সী রেজাউরের বাবা ছিলেন সিলেটের এক মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক। ২০১৯ সালে তিনি মারা যান। সাত ভাই ও ছয় বোনের সংসারে সবচেয়ে ছোট রেজাউর ছিলেন টেপ টেনিস ক্রিকেটের পাগল।

এলাকার বড় ভাইরা রেজাউরের টেপ টেনিস ক্রিকেটে বোলিং দেখে ডেকে নেন ক্রিকেট বলের টুর্নামেন্টে। প্রথমবার টেপ প্যাঁচানো টেনিস বল ছেড়ে চামড়ায় মোড়ানো ক্রিকেট বলটা হাতে নিয়ে ভিন্ন স্বাদই পেয়েছিলেন রেজাউর।

প্রথম দিন ক্রিকেট বলে বল করেই পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন জাগে তাঁর মনে। স্বপ্নের সলতে জ্বালাতে সাহায্য করেন বড় ভাইরা। একজন একদিন বলে বসেন, ‘তুই তো দারুণ বল করিস। তুই স্টেডিয়ামে অনুশীলন কর।’

এলাকার ভাইদের ‘ভালো বোলার’ প্রশংসাপত্র পেয়ে তো রেজাউর আনন্দে আত্মহারা। বাড়ি ফিরে ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন পরিবারকে। কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারে সেই চিরাচরিত সংকোচ বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের সবার একটাই কথা, ‘কী দরকার এসবের?’

এমন প্রশ্নের পেছনে যুক্তিও ছিল। রেজাউর ভালো ছাত্র। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসিতে জিপিএ–৫ এবং এইচএসসিতে ৪.৮৮ পয়েন্ট পাওয়া ছেলে ভালো জায়গায় পড়বে, বড় চাকরি করবে—এটাই তো চাওয়া থাকে বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত পরিবারের। শখ মেটাতে কেন খামোখা ক্রিকেটের অনিশ্চিত পথ ধরবে?

ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর রেজাউর তখন পরিবারের যুক্তি শোনেননি। কোনো রকমে মাকে রাজি করিয়ে সিলেটের এক একাডেমিতে ভর্তি হন। তবে সিলেটে ঘরোয়া ক্রিকেটের সিঁড়ি বেয়ে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার রাস্তাটা রেজাউরের কাছে অনেক দীর্ঘ মনে হচ্ছিল।

কিছুদিন অনুশীলন করে টেপ টেনিস খেলে জমানো টাকা নিয়ে রেজাউর ঢাকা চলে আসেন। ভর্তি হন মিরপুরের সিটি ক্লাবে। সেখান থেকে একবার নেট বোলার হয়ে মিরপুর স্টেডিয়ামে গিয়ে বিসিবি হাই পারফরম্যান্স বিভাগের পেস বোলিং কোচ চম্পাকা রামানায়েকের নজরে পড়েন। শুরুর দিকে এইচপি দলের বাইরের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও রেজাউরকে নিয়মিত অনুশীলনে আসতে বলতেন চম্পাকা।