ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচে গোল না হলেও ছিল ৪২টি ফাউল

আসন্ন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এর বাছাইপর্বের ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র করেছে আর্জেন্টিনা। ফাউলে পরিপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও গোল করতে ব্যর্থ লাতিনের দুই পরাশক্তি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হলো ম্যাচ, এখনো কাতার বিশ্বকাপে খেলার টিকেট হাতে পেলো না আর্জেন্টিনা। পেশির ইনজুরির কারণে নেইমার না থাকলেও চোটে আক্রান্ত মেসিকে নিয়েই মাঠে নামে আকাশি-নীলরা। আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠ স্যান হুয়ানে শুরু থেকেই এলোমেলো ফুটবল খেলে লাতিন অঞ্চলের দুই ফুটবল পরাশক্তি।

এদিন পুরো ম্যাচ জুড়ে দুই দল গোল করতে না পারলেও ঠিকমতোই চলে পেশিশক্তির প্রদর্শন। একের পর এক ফাউল নষ্ট হয় ম্যাচের সৌন্দর্য্য। গুনে গুনে ৪২ বার প্রতিপক্ষকে ফাউল করে দুই দলের ফুটবলাররা। সর্বমোট ৪২টি ফাউলের (আর্জেন্টিনা ২২, ব্রাজিল ২২)।

ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়া এই ম্যাচটি জিতে অন্য কোনো হিসাব ছাড়াই কাতার বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল স্বাগতিক আর্জেন্টিনার সামনে, পারল না তারা। প্রথম মিনিট থেকেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই উত্তাপ ছড়ায়। বারবার হওয়া ফাউলে বিঘ্ন ঘটে ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ। এর মাঝেই গতিময় ফুটবলে চলতে থাকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, যদিও প্রতিপক্ষের রক্ষণে কেউই পারছিল না তেমন ভীতি ছড়াতে।

সপ্তদশ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় ব্রাজিল; তবে ডি-বক্সের মুখ থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশ করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ২৪তম মিনিটে আনহেল ডি মারিয়ার পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে মেসির নেওয়া শট ঠেকান ডিফেন্ডার দানিলো। ছয় মিনিট পর পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে লাউতারো মার্টিনেজের শটও রক্ষণে প্রতিহত হয়।

৩৩তম মিনিটে ব্রাজিলের ডি-বক্সের মুখে বল দখলে নিতে গিয়ে মেসি পড়ে গেলে ফাউলের আবেদন করে আর্জেন্টিনা শিবির, তবে রেফারির সাড়া মেলেনি। এসময় বেশ ক্ষুব্ধ দেখা যায় স্বাগতিক অধিনায়ককে। খানিক পরই আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে ডিফেন্ডার ওটামেন্ডির হাতের আঘাতে রাফিনিয়ার মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। ব্রাজিলের পক্ষ থেকে পেনাল্টির জোরালো আবেদন উঠলেও ভিএআরেও তাদের আশা পূরণ হয়নি।

প্রথমার্ধের ৪১তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো আর্জেন্টিনা। তবে ডি-বক্সের বাইরে থেকে রদ্রিগো ডি পলের দূরের পোস্টে নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন আলিসন। বিরতির পরও একইভাবে চলতে থাকে মাঠের ফুটবল। ৬০তম মিনিটে ভাগ্যের ফেরে গোলবঞ্চিত হয় ব্রাজিল। ডি-বক্সের বাইরে থেকে মিডফিল্ডার ফ্রেদের শট ক্রসবারে বাধা পায়। ১০ মিনিট পর ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে হতাশ করেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস।