৭ ক্রিকেটারকে নিয়ে মিরপুরে সুজন, সঙ্গী সালাহউদ্দিন

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন চান অনেকে। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া করা যাবে না, ধৈর্য ধরতে হবে- এই আহ্বান জানিয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

নতুন খবর হচ্ছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, স্বপ্নভঙ, হতাশা, হতশ্রী পারফরম্যান্স। এই শব্দগুলো থেকে বাংলাদেশকে আলাদা করার উপায় নেই। সময় বদলেছে, ভেন্যু বদলেছে, এমনকি শহরও বদলেছে। তবে বদলায়নি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতা। গত কয়েক বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে যতটা উন্নতি হয়েছে টি-টোয়েন্টিতে যেন ঠিক ততটাই পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সব মিলে ৮ ম্যাচ খেলে ৬টিতেই হেরে শূন্য হাতে বাড়ির ফিরেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

প্রখর রোদের উত্তাপ থাকলেও বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সের পর অনুমেয়ভাবেই নিরব মিরপুর শের ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। আপাতত ছুটিতে আছেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররা। এনসিএলে ব্যস্ত থাকায় গেল কয়েকদিনে আনাগোনা নেই অন্য ক্রিকেটারদেরও। বিশ্বকাপের ব্যর্থতা শেষে বাংলাদেশের পরবর্তী মিশন ঘরের মাঠে পাকিস্তান সিরিজ। বাবর আজমদের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করবে পুরো দল।

অনুশীলন ক্যাম্প শুরুর দিন পাঁচেক বাকি থাকলেও রবিবার সকাল ৯ টা পেরিয়ে মিরপুরে চোখ রাখতেই দেখা মিলল সাত ক্রিকেটারকে। যেখানে পারভেজ হোসেন ইমন, ইয়াসির আলি রাব্বি, সাইফ হাসান, তৌহিদ হৃদয়, কামরুল ইসলাম রাব্বি, তানভির ইসলাম সঙ্গে দেখা মিলল নাজমুল হোসেন শান্তর। বিশ্বকাপে ভালো করতে না পারায় পাকিস্তানের বিপক্ষে দেখা যাবে বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারকে।

রবিবার ইমন, শান্ত, হৃদয়দের দেখে আঁচ করা যেতেই পারে পাকিস্তান সিরিজের স্কোয়াডে কারা থাকছেন। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পাওয়ার হিটিং দিয়ে নজর কেড়েছিলেন ইমন। যে কারণে লিটন-সৌম্যদের ব্যর্থতায় বাঁহাতি এই ব্যাটারকে ভাবা হচ্ছে ওপেনিংয়ের নতুন সেনসেশন। পাকিস্তানের বিপক্ষে দেখা যেতে পারে হৃদয় কিংবা সাইফদেরও।

মিরপুরে মাঠে নেমেই খানিকটা রানিং করে নিলেন সাত ক্রিকেটার। তাদের পর্যবেক্ষণ করতে এদিন মাঠে ছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন ও মিজানুর রহমান বাবুল। কদিন আগেই জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টরের দায়িত্ব পেয়েছেন সুজন। দায়িত্ব পেতে না পেতেই ইমন-শান্তদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক।

রানিং শেষে দুই দলে ভাগ হয়ে ব্যাটিংটা ঝালিয়ে নিয়েছেন ইমন-শান্তরা। মিরপুরের অ্যাকাডেমি মাঠে সাইফের সঙ্গী ছিলেন হৃদয়। এদিকে ইনডোরে শান্তর পাশের নেটে ব্যাটিং করেছেন ইমন। তাদের বোলিং করেছেন কামরুল ইসলাম রাব্বি, তানভির ইসলামরা। কখনও সুজন আবার কখনও বাবুল ব্যস্ত ছিলেন শান্ত-ইমনদের ভুল শুধরে দিতে। পেসারদের বিপক্ষে লেগ সাইডে শট খেলতে গিয়ে বারবারই বিপাকে পড়ছিলেন ইমন। সেটা শুধরে দিতেই এগিয়ে যান বাবুল। বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন কোথায় সমস্যা হচ্ছে।

এনসিএলের এবারের আসরে ব্যাট হাতে সময়টা দারুণ কেটেছে শান্তর। রান তোলার টোটকা জানতেই যেন শান্তর সঙ্গে একান্ত আলাপ সেরে নিচ্ছিলেন ইমন। শান্ত-ইমনদের নিয়ে এসে সুজন-বাবুলরা মিরপুরে যে উত্তাপ ছড়িয়েছেন সেটা আরও খানিকটা বাড়িয়ে দেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালের গুরুকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সবথেকে সফলতম কোচ।