জানা গেল মালিবাগের প্রাইভেটকারে তরুণীর অচেতন থাকার কারণ

গত রবিবার ২৩ এপ্রিল রাতে রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়া মোড়ে প্রাইভেটকার থেকে অচেতন এক তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় প্রাইভেটকারের চালককে আটক করা হয়। সে সময় তাদের পরিচয় জানা না গেলেও পরে তাদের পরিচয় ও প্রাইভেটকারে অজ্ঞান হওয়ার কারণ জানা যায়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে প্রাইভেটকারে থাকা তরুণ-তরুণী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৮টায় যখন রামপুরা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে তখন তারা অতিরিক্ত মদ পান করেছিলেন। যার ফলে তারা একটি মোটরসাইকেল ও একটি রিকশাকে ধাক্কা দেয়। পরে সেখান থেকে তারা দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু মোটরসাইকেলের চালক তাদের পিছু নেয়। এক পর্যায়ে মালিবাগ সিগন্যালে গাড়িটি থামলে লোকজন তাদের আটকে ফেলে।

ওই সময় তরুণ চালক ড্রাইভিং সিটে চুপচাপ বসে ছিলেন। তার পাশের সিটে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন এক তরুণী। তরুণীর কোনো সাড়া ছিল না। পরে পুলিশ গাড়িসহ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পর হঠাৎই চিৎকার শুরু করেন ওই তরুণী। একপর্যায়ে তিনি পুলিশ ও চিকিৎসককে গালিগালাজ করতে থাকেন।

শুধু তাই নয়, পুলিশের অনুরোধে চিকিৎসক যখন তাদের স্টমাক ওয়াশ করতে বলেন তখন শুরু হয় প্রবল মাতলামি। কিছুতেই স্টমাক ওয়াশ করবেন না তারা। জরুরি বিভাগের টিকিটও ছিঁড়ে ফেলেন তারা। তাদেরকে নিয়ে আসা পুলিশ ও আনসারদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি খায় ওই তরুণী।

এভাবে ৩ ঘণ্টা পেরিয়ে যাবার পর অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকা মেডিকেলের পুলিশ ফাঁড়ির সহ-ইনচার্জ মাসুদ মিয়া শাহবাগ থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পরে রামপুরা থানার মহিলা পুলিশ এসে তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, মদ খেয়ে গাড়ি চালিয়ে তারা বিভিন্ন গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছে। তারা মদ্যপ অবস্থায় ছিল, বিভিন্নজনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে, পুলিশের সঙ্গেও তারা গালিগালাজ করছে। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানেও তারা গালাগালি করেছে। কতটুকু পরিমাণ মদ খেলে কি হতে পারে সে ব্যাপারেও তারা জানত না। এরপর সড়কে মদ খেয়ে মাতলামি করায় সেই তরুণ তরুণীকে মাদক আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।