ঝালকাঠিতে ঈদের ছুটিতে বিয়ের হিড়িক

এবার ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছে সবাই। আর টানা ছুটিতে আত্মীয়স্বজনকে একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগে ঝালকাঠিতে চলছে বিয়ের ধুম। শহর কিংবা গ্রাম সবখানেই বাজছে সানাইয়ের সুর। যেন ঈদকেন্দ্রিক চলছে বিয়ে উৎসব। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে জেলাজুড়ে বিয়ের এ ধুম শুরু হয়। ঈদের ছুটিকে ঘিরে গতকাল সোমবার ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় পাঁচ শতাধিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কাজি সমিতি।

এদিকে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে ঝালকাঠির পার্লার, ফুলসহ বিয়েকেন্দ্রিক সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দম ফেলারও সময় নেই। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই যেন বিয়ের হিড়িক।

শহরের কামিনী পুষ্পকুঞ্জের মালিক ইকবাল হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ঈদের পরের দিন থেকে এমন ঈদকেন্দ্রিক বিয়ে সংস্কৃতি শুরু হয়। আমাদের ঈদের আগের দিন থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয়। চলে ঈদের পর চার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত। ক্রেতার চাহিদা পূরণ করাটাই আমাদের সাফল্য। ফুল ছাড়াও বিয়ের পাগড়ি, বরের শেরওয়ানি, জুতা ইত্যাদি ভাড়া দিয়ে থাকি। আর বিয়ের গাড়ি এবং আসর সাজানোর কাজ চলবে আরও চার থেকে পাঁচ দিন।

শহরের একটি পার্লারে বউ সাজতে আসা ফরজানা আক্তার বলেন, ঈদের সময় বিয়ে আয়োজন মজার হয়। জীবিকার কারণে আত্মীয়রা সারা বছর কর্মব্যস্ত থাকেন। কেবল বছরের এই ঈদ উৎসবেই নাড়ির টানে সবাই গ্রামের বাড়িতে আসেন। এ সময় আত্মীয়স্বজন সবাইকে একসঙ্গে কাছে পাওয়ায় বিয়ের এ সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিন দিন মানুষের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় ঈদের ছুটিতে তাই বিয়ের এ অনুষ্ঠানের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

এদিকে কাজি সমিতির সভাপতি সভাপতি বশির গাজী বলেন, ঈদের সময় আত্মীয়স্বজনসহ সবার উপস্থিতিতে সামাজিক সম্প্রীতি যেমন বাড়ছে। ঈদ উপলক্ষে জেলার চার উপজেলায় কাজি অফিসগুলোতে এখন বিয়ের রেজিস্ট্রি বেড়েছে। জেলায় পাঁচ শতাধিক বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলা জুড়ে চলছে বিয়ের উৎসব।