ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ব্রিটিশরা না থাকলে আমেরিকানরা এখন ফরাসি ভাষায় কথা বলত: ট্রাম্পকে খোঁচা রাজা তৃতীয় চার্লসের হরমুজ প্রণালির জন্য ইরানকে টোল দিতে রাজি নয় মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে শুভেন্দুকে মারার চেষ্টা পিএসএলের ফাইনালে গতির ঝড় তুলতে পাকিস্তান যাচ্ছেন নাহিদ রানা ইরানকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান স্কুলছাত্রী অদিতাকে নৃশংসভাবে হত্যা: সেই গৃহশিক্ষকের ফাঁসির আদেশ দেশের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সুখবর, সহায়তার ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী প্রার্থনা করি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন আর ভালো না হয়: আসামের মুখ্যমন্ত্রী বরিশালে হাসপাতালের বেডে শুয়েই অশ্লীলতা দুই সমকামী তরুণীর

জামায়াত নেতার পেছনে একজনের হাতে টাকা তুলে দেয়া ব্যক্তি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি শামীম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৬৬ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ‘ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণের সময় জনতার তোপের মুখে জামায়াত নেতা’ শিরোনামে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে এক হাজার ও পাঁচশো টাকার নোট দেখাতে দেখা যায় এবং পেছন থেকে “টেহা দিছে” বলে মন্তব্য শোনা যায়। ভিডিওটি ঘিরে দাবি করা হয়, জামায়াতের এক নেতা ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করছিলেন।

তবে সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় সাংবাদিক, পুলিশ এবং বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিরা জামায়াতের নন; বরং স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ভিডিওতে সাদা শার্ট পরা যিনি এক হাজার টাকার নোট দেখাচ্ছেন, তার নাম বৈ খাঁ—তিনি স্থানীয় বিএনপি কর্মী। হলুদ শার্ট ও কালো জ্যাকেট পরিহিত ব্যক্তি ইসমাইল, যিনি বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, হলুদ গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরা যুবক শামীম—যিনি একই ইউনিয়নের ছাত্রদলের সহসভাপতি—এক বৃদ্ধের হাতে পাঁচশো টাকার নোট তুলে দিতে দেখা যায়। যাকে টাকা দেওয়া হয়, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম; কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

ভিডিওতে আরও দেখা যায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক লাবু খাঁকে; তবে তাকে কাউকে টাকা দিতে দেখা যায়নি। ভিডিওর শুরুতে পাঞ্জাবি পরা লাল দাড়িওয়ালা যিনি মোবাইলে কথা বলতে বলতে সামনে এগিয়ে যান, তিনি জামায়াতের ইউনিয়ন সভাপতি কাজী নুরুল ইসলাম।

ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট জানতে দ্য ডিসেন্ট সাড়ে চার মিনিটের আরেকটি ভিডিও সংগ্রহ করে। সেখানে একটি বাড়ির উঠানে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক দেখা যায়। ভিডিওতে জামায়াত পক্ষ অভিযোগ করে, তাদের গণসংযোগে বাধা দেওয়া হয়েছে; অপরদিকে বিএনপি পক্ষ দাবি করে, জামায়াত নেতারা সভাপতির বাড়ির সামনে এসে মিটিং করেছেন।

স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে অর্জুনা ইউনিয়নের জগতপুরা গ্রামে জামায়াত নেতাকর্মীরা ভোটের গণসংযোগে গেলে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে এসে বাধা দেন। ওই সময়ই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ভিডিও ধারণ করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম অভিযোগ করেন, বিএনপি সমর্থকদের হামলায় তাদের একজন মারধরের শিকার হন এবং ঘটনা আড়াল করতেই বিএনপি সমর্থকেরা নিজেরাই টাকা বের করে ‘ভোটের টাকা’ বলে ভিডিও ছড়ায়। তিনি আরও দাবি করেন, মোবাইল ছিনতাই ও অডিও-ভিডিও মুছে ফেলার ঘটনাও ঘটে।

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাব্বির রহমান বলেন, “ঘটনাস্থলে জামায়াতের লোকজন টাকা বিলায়নি। বিএনপি সমর্থকরাই টাকা বের করে ভিডিও করেছে। হ্যান্ডমাইক ছেঁড়া ও ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল, পরে ফোন ফেরত দেওয়া হয়।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান জানান, ঘটনাটি তদন্তে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাজিব হোসেন বলেন, সরেজমিনে গিয়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা বোঝা গেছে; তবে তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটিশরা না থাকলে আমেরিকানরা এখন ফরাসি ভাষায় কথা বলত: ট্রাম্পকে খোঁচা রাজা তৃতীয় চার্লসের

জামায়াত নেতার পেছনে একজনের হাতে টাকা তুলে দেয়া ব্যক্তি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি শামীম

আপডেট সময় ০৮:০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ‘ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণের সময় জনতার তোপের মুখে জামায়াত নেতা’ শিরোনামে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে এক হাজার ও পাঁচশো টাকার নোট দেখাতে দেখা যায় এবং পেছন থেকে “টেহা দিছে” বলে মন্তব্য শোনা যায়। ভিডিওটি ঘিরে দাবি করা হয়, জামায়াতের এক নেতা ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করছিলেন।

তবে সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় সাংবাদিক, পুলিশ এবং বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিরা জামায়াতের নন; বরং স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ভিডিওতে সাদা শার্ট পরা যিনি এক হাজার টাকার নোট দেখাচ্ছেন, তার নাম বৈ খাঁ—তিনি স্থানীয় বিএনপি কর্মী। হলুদ শার্ট ও কালো জ্যাকেট পরিহিত ব্যক্তি ইসমাইল, যিনি বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, হলুদ গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরা যুবক শামীম—যিনি একই ইউনিয়নের ছাত্রদলের সহসভাপতি—এক বৃদ্ধের হাতে পাঁচশো টাকার নোট তুলে দিতে দেখা যায়। যাকে টাকা দেওয়া হয়, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম; কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

ভিডিওতে আরও দেখা যায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক লাবু খাঁকে; তবে তাকে কাউকে টাকা দিতে দেখা যায়নি। ভিডিওর শুরুতে পাঞ্জাবি পরা লাল দাড়িওয়ালা যিনি মোবাইলে কথা বলতে বলতে সামনে এগিয়ে যান, তিনি জামায়াতের ইউনিয়ন সভাপতি কাজী নুরুল ইসলাম।

ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট জানতে দ্য ডিসেন্ট সাড়ে চার মিনিটের আরেকটি ভিডিও সংগ্রহ করে। সেখানে একটি বাড়ির উঠানে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক দেখা যায়। ভিডিওতে জামায়াত পক্ষ অভিযোগ করে, তাদের গণসংযোগে বাধা দেওয়া হয়েছে; অপরদিকে বিএনপি পক্ষ দাবি করে, জামায়াত নেতারা সভাপতির বাড়ির সামনে এসে মিটিং করেছেন।

স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে অর্জুনা ইউনিয়নের জগতপুরা গ্রামে জামায়াত নেতাকর্মীরা ভোটের গণসংযোগে গেলে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে এসে বাধা দেন। ওই সময়ই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ভিডিও ধারণ করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম অভিযোগ করেন, বিএনপি সমর্থকদের হামলায় তাদের একজন মারধরের শিকার হন এবং ঘটনা আড়াল করতেই বিএনপি সমর্থকেরা নিজেরাই টাকা বের করে ‘ভোটের টাকা’ বলে ভিডিও ছড়ায়। তিনি আরও দাবি করেন, মোবাইল ছিনতাই ও অডিও-ভিডিও মুছে ফেলার ঘটনাও ঘটে।

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাব্বির রহমান বলেন, “ঘটনাস্থলে জামায়াতের লোকজন টাকা বিলায়নি। বিএনপি সমর্থকরাই টাকা বের করে ভিডিও করেছে। হ্যান্ডমাইক ছেঁড়া ও ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল, পরে ফোন ফেরত দেওয়া হয়।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান জানান, ঘটনাটি তদন্তে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাজিব হোসেন বলেন, সরেজমিনে গিয়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা বোঝা গেছে; তবে তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।