ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, জানালেন ফিফা সভাপতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী ঘোষণা একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার টুঙ্গিপাড়ায় পঙ্গু স্বামী ও শিশুকন্যাকে রেখে স্ত্রীর পলায়ন ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল সরকার-বিরোধী দলের যে কেউ ব্যর্থ হলে পুরো সংসদ ব্যর্থ হবে: প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবার আগুনে পুড়লো টিসিবির পণ্য, খালি হাতে ফিরলো নিম্নআয়ের মানুষ নিজের প্রাক্তন কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় সাবেক প্রতিমন্ত্রী-এমপিসহ ৪০ জনের নামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

ঈদের কাপড় কিনে নিও টাকা পাঠাচ্ছি বলার পরই মিসাইল হামলায় প্রবাসী বাবা নিহত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

এবার সৌদি আরবে একটি আবাসিক ভবনে মিসাইল হামলায় নিহত হয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের প্রবাসী মোশারফ হোসেন (৩৮) রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে দেশটির আলখার্জ গভর্নরেটের একটি কম্পাউন্ডের আবাসিক ভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার তথ্য জানা গেছে।

নিহত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব যান মোশারফ হোসেন। সর্বশেষ দুই বছর আগে তিনি দেশে এসেছিলেন। মৃত্যুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগেও বড় ছেলে মাহিমের (১৪) সঙ্গে তার ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। মাহিম বলেন, রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়। তখন বাবা বলেনঈদের কাপড় কেনার জন্য যা লাগে তা কিনে নিও। ইফতারের পর টাকা পাঠাবে। কিন্তু ইফতারের সময়ই মিসাইল হামলায় বাবা মারা গেছেন।

মাহিম মোশারফের বড় ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে মিহান () প্রথম শ্রেণীর মাদরাসার ছাত্র। মোশারফের স্ত্রী কবরী আক্তার বলেন, রোববার রাত ৭টার দিকে তার সঙ্গে শেষ কথা হয় আমার। এখন দুই সন্তান নিয়ে আমি কীভাবে চলব? আমাদের এখন কে দেখবে? সোমবার (৯ মার্চ) কীর্তনখোলা গ্রামে মোশারফের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। বাড়িতে তার মা, একমাত্র বোন মোর্শেদা এবং স্ত্রী কবরী আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

মোশারফের বাবা সুজাত আলী বলেন, আমার ছেলেকে তো আর দেখতে পাবো না। এখন অন্তত তার মরদেহটা দেশে ফেরত চাই। যেন শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারি। মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনী নিহত মোশারফের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। আব্দুল্লাহ আল রনী বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, জানালেন ফিফা সভাপতি

ঈদের কাপড় কিনে নিও টাকা পাঠাচ্ছি বলার পরই মিসাইল হামলায় প্রবাসী বাবা নিহত

আপডেট সময় ১০:৩৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

এবার সৌদি আরবে একটি আবাসিক ভবনে মিসাইল হামলায় নিহত হয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের প্রবাসী মোশারফ হোসেন (৩৮) রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে দেশটির আলখার্জ গভর্নরেটের একটি কম্পাউন্ডের আবাসিক ভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার তথ্য জানা গেছে।

নিহত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব যান মোশারফ হোসেন। সর্বশেষ দুই বছর আগে তিনি দেশে এসেছিলেন। মৃত্যুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগেও বড় ছেলে মাহিমের (১৪) সঙ্গে তার ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। মাহিম বলেন, রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়। তখন বাবা বলেনঈদের কাপড় কেনার জন্য যা লাগে তা কিনে নিও। ইফতারের পর টাকা পাঠাবে। কিন্তু ইফতারের সময়ই মিসাইল হামলায় বাবা মারা গেছেন।

মাহিম মোশারফের বড় ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে মিহান () প্রথম শ্রেণীর মাদরাসার ছাত্র। মোশারফের স্ত্রী কবরী আক্তার বলেন, রোববার রাত ৭টার দিকে তার সঙ্গে শেষ কথা হয় আমার। এখন দুই সন্তান নিয়ে আমি কীভাবে চলব? আমাদের এখন কে দেখবে? সোমবার (৯ মার্চ) কীর্তনখোলা গ্রামে মোশারফের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। বাড়িতে তার মা, একমাত্র বোন মোর্শেদা এবং স্ত্রী কবরী আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

মোশারফের বাবা সুজাত আলী বলেন, আমার ছেলেকে তো আর দেখতে পাবো না। এখন অন্তত তার মরদেহটা দেশে ফেরত চাই। যেন শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারি। মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনী নিহত মোশারফের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। আব্দুল্লাহ আল রনী বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।