ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আওয়ামী লীগ দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করেছিলো: রাশেদ খাঁন পাগলা মসজিদে ৩ ঘণ্টায় মিলল ১০ কোটি টাকা, এখনো চলছে গণনা বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা ট্যাক্স! আয়োজকরা চায় আমরা বাদ পড়ি: ইরানের অধিনায়ক নিজ দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সবার সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা কুমিল্লায় রেস্টুরেন্টে বাচ্চা রেখে চলে গেল ‘কাশ্মিরি’ পরিবার ইরানের মুহুর্মুহু হামলায় ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছিল মার্কিন সেনারা বাজেট নিয়ে এবার ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান ওঠেনি : জয়নুল আবদীন চুক্তি হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, সংসদকে পাশ কাটিয়ে কিছু নয়: ডা. শফিকুর রহমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে: মির্জা ফখরুল

ভারত থেকে পাইপলাইনে ৭ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি শুরু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ২৭৩ বার পড়া হয়েছে

এবার মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথের পাশাপাশি পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানিতে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর অংশ হিসেবে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ৭ হাজার টন ডিজেল আমদানি শুরু হয়েছে।

গতকাল শনিবার(২৮ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে পাইপলাইনে তেল আসা শুরু হয়। পুরো চালান পৌঁছাতে আরও এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা সচল থাকায় আপাতত জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের কৃষি, সড়ক পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। ফলে সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। চলতি মাসে ১৭টি জাহাজে ডিজেল আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসেছে ৯টি। একটি জাহাজ পথে রয়েছে এবং বাকি ৭টির সূচি এখনো অনিশ্চিত।

এই পরিস্থিতিতে পাইপলাইনের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারত থেকে প্রায় ১৫ হাজার টন ডিজেল এসেছে। এর আগে ২৫ মার্চ ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় পাইপলাইনকে তুলনামূলক স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে নুমালিগড় রিফাইনারির সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশভারত মৈত্রী পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়, যেটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়। প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে, অতিরিক্ত ৬০ হাজার টন সরবরাহের সুযোগও রয়েছে।

তবে, সীমিত সংরক্ষণ সক্ষমতার কারণে একবারে বড় পরিমাণ তেল আমদানি করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে দ্রুত খালাসের সুবিধা থাকায় ৭ হাজার টন করে আনা সম্ভব হচ্ছে। পাইপলাইনে প্রতি ব্যারেল ডিজেল পরিবহন ব্যয় প্রায় সাড়ে ৫ ডলার, যা অনেক ক্ষেত্রে সমুদ্রপথের তুলনায় কম। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে এর পুরো সুবিধা পাওয়া যাবে না। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় ডিজেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামনে কৃষি মৌসুম থাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। ২০২৪২৫ অর্থবছরে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন, যার বড় অংশই আমদানিনির্ভর।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করেছিলো: রাশেদ খাঁন

ভারত থেকে পাইপলাইনে ৭ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি শুরু

আপডেট সময় ০৪:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

এবার মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথের পাশাপাশি পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানিতে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর অংশ হিসেবে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ৭ হাজার টন ডিজেল আমদানি শুরু হয়েছে।

গতকাল শনিবার(২৮ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে পাইপলাইনে তেল আসা শুরু হয়। পুরো চালান পৌঁছাতে আরও এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা সচল থাকায় আপাতত জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের কৃষি, সড়ক পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। ফলে সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। চলতি মাসে ১৭টি জাহাজে ডিজেল আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসেছে ৯টি। একটি জাহাজ পথে রয়েছে এবং বাকি ৭টির সূচি এখনো অনিশ্চিত।

এই পরিস্থিতিতে পাইপলাইনের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারত থেকে প্রায় ১৫ হাজার টন ডিজেল এসেছে। এর আগে ২৫ মার্চ ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় পাইপলাইনকে তুলনামূলক স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে নুমালিগড় রিফাইনারির সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশভারত মৈত্রী পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়, যেটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়। প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে, অতিরিক্ত ৬০ হাজার টন সরবরাহের সুযোগও রয়েছে।

তবে, সীমিত সংরক্ষণ সক্ষমতার কারণে একবারে বড় পরিমাণ তেল আমদানি করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে দ্রুত খালাসের সুবিধা থাকায় ৭ হাজার টন করে আনা সম্ভব হচ্ছে। পাইপলাইনে প্রতি ব্যারেল ডিজেল পরিবহন ব্যয় প্রায় সাড়ে ৫ ডলার, যা অনেক ক্ষেত্রে সমুদ্রপথের তুলনায় কম। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে এর পুরো সুবিধা পাওয়া যাবে না। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় ডিজেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামনে কৃষি মৌসুম থাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। ২০২৪২৫ অর্থবছরে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন, যার বড় অংশই আমদানিনির্ভর।