স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ডেপুটি গভর্নরকে (ডিজি) ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের বেসরকারি খাতের বৃহৎ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাবেক ডিজি খুরশিদ আলম।
রোববার সন্ধ্যায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে পদত্যাগ করেন জুবায়দুর রহমান। ঠিক তারপরই খুরশিদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেনে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর আগে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে জুলাই আন্দোলনের পর ডেপুটি গভর্নর পদ থেকে মো. খুরশীদ আলমকে পদত্যাগ করতে হয়। অনেক নাটকীয়তার পরে আজ তাকে আবার ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে ইসলামী ব্যাংককে জানিয়েছে।
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির প্রহসনের ‘আমি-ডামি’ নির্বাচন করে সরকার গঠন করে। এরপরই খুরশীদ আলমকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর তিনিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন।
এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শে অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আগের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পদত্যাগের পর গতবছরের ২৩ জুলাই তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এদিকে, ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আন্দোলনের মুখে আজ ব্যাংকটির পূর্ব নির্ধারিত পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা হওয়ার কথা ছিল। পর্ষদ সভায় এসে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করবেন এমন আলোচনা ছিল।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে তাকে ৪৯ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। আগামী ৩১ মে তার ছুটি শেষ হওয়ার কথা। আজ ওমর ফারুক প্রধান কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হলেও আন্দোলনকারীরা তাকে ব্যাংকে ঢুকতে দেয়নি। যদিও একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনিও ব্যাংকের চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়ে গেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















