ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মোদিকে দেখেই মেলোনির হাস্যরস, ‘আমরাই সবচেয়ে বিখ্যাত কাপল’ জনগণের টাকা পাচার হতে দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী ইরানের খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে তাদের ড্রেসিংরুমে যান ফিফা প্রধান জুলাইয়ের এক তারিখ থেকে পুরোদমে শুরু ফ্যামিলি-কৃষক-ইমাম কার্ড কর্মসূচি: আইনমন্ত্রী মেসির গোল উৎসব বাংলাদেশে, শিরোনাম হলো আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমে গন্তব্যে আর ফেরা হলো না, মহাসড়কেই আছড়ে পড়ল বিমান…. ভয়াবহ ফাউল, তবু শাস্তি নয়—মেসিকে ঘিরে নেটদুনিয়ায় তুমুল বিতর্ক দীঘিতে নেমে তর্ক, বন্ধুকে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ ‘ইরানে ভিয়েতনামের চেয়েও বড় পরাজয় যুক্তরাষ্ট্রের’ রোনালদোর কাতারে থাকতে পারাটা আমার জন্য বিরাট সম্মানের: মেসি

গণতন্ত্র স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজনীতি ছাড়ছি না: শেখ হাসিনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা অতীতে একাধিকবার ইঙ্গিত দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনগণের প্রতি নিজের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

 

ভারতের একটি বাংলা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভানেত্র শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তার আর কোনো প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা নেই। বরং দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দলীয় নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার পক্ষে কথা বলে আসছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে মনে করেন তিনি।

 

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার সংকটের মুখে রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

 

শেখ হাসিনা বলেন, তার লক্ষ্য ক্ষমতায় ফেরা নয়; বরং দেশের জনগণের প্রতি যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেটি পালন করা। জনগণের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই তিনি অবসরের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

 

দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা পারিবারিক সংগঠন নয়। দলীয় কাউন্সিল ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে। যোগ্যতা, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আদর্শিক অবস্থান—এসবই নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে বলে জানান তিনি।

 

একই সঙ্গে প্রবীণ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কঠিন সময়ে দলের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ নেতারাই ভবিষ্যতে সংগঠনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবেন।

 

দলের পুনর্গঠন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা জানান, অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হলে নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা হবে। সেই প্রক্রিয়ায় নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমিক ও আদর্শনিষ্ঠ নেতাদের সামনে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদিকে দেখেই মেলোনির হাস্যরস, ‘আমরাই সবচেয়ে বিখ্যাত কাপল’

গণতন্ত্র স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজনীতি ছাড়ছি না: শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ০৮:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা অতীতে একাধিকবার ইঙ্গিত দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনগণের প্রতি নিজের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

 

ভারতের একটি বাংলা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভানেত্র শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তার আর কোনো প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা নেই। বরং দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দলীয় নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার পক্ষে কথা বলে আসছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে মনে করেন তিনি।

 

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার সংকটের মুখে রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

 

শেখ হাসিনা বলেন, তার লক্ষ্য ক্ষমতায় ফেরা নয়; বরং দেশের জনগণের প্রতি যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেটি পালন করা। জনগণের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই তিনি অবসরের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

 

দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা পারিবারিক সংগঠন নয়। দলীয় কাউন্সিল ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে। যোগ্যতা, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আদর্শিক অবস্থান—এসবই নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে বলে জানান তিনি।

 

একই সঙ্গে প্রবীণ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কঠিন সময়ে দলের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ নেতারাই ভবিষ্যতে সংগঠনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবেন।

 

দলের পুনর্গঠন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা জানান, অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হলে নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা হবে। সেই প্রক্রিয়ায় নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমিক ও আদর্শনিষ্ঠ নেতাদের সামনে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে।