শফিকুল আলম, রংপুর প্রতিনিধিঃ ফুলও ফুটেছে বসন্তও এসেছে। কিশোরীরা মনের ছন্দে বনে বাদারে ঘুরে ঘুরে সাদা ফুল সংগ্রহ করে দুই কানে লাগিয়েছে দুল। কপালে পড়েছে, কৃষ্ণচূড়া ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে বানানো বড় লাল টিপ।

অবুঝ বালিকারা বুনেছে বিভিন্ন ফুল দিয়ে লাল সবুজের কাপড়ে হরেক রকম মালা ও মাথার ব্যান্ড, খোপায় পড়েছে বেলী ফুল। পড়নে হলুদ শাড়ী। মাটির মন্চে মিউজিক ও গানের তালে নাচছে ওরা ” ময়না ছলাত ছলাত চলেরে ,,,, পিছন ফিরে……….।

মন্চের উপড়ে কৃষ্ণচূড়ার গাছটি যেন সামিয়ানা হয়ে আগলে রেখেছে দুরন্ত ও নৃত্যরত বালিকাদের।

আবার বাতাসে ভাসছিল ওর (বসন্ত) আগমনী বার্তা। ঝরে পড়ছে গাছের ধূসর পাতা। কচি পাতায় ঢেকে যাচ্ছে শাখা-প্রশাখা। তার ভেতর থেকেই আনমনে ডেকে চলছে কোকিল। ফুলের বাগানেও শুরু হয়েছে রঙের খেলা। রুক্ষ, হিমেল দিন পার করে প্রকৃতিতে ফুটে উঠেছে বর্ণিল, সুবাসিত এক ঋতু। কী নেই তার! রূপ, রস, লাবণ্য ছড়িয়ে পড়ছে মাতাল এক সমীরণে।

প্রকৃতি যখন এমন সাজু গুজুতে ব্যস্ত ঠিক তখনই ওকে (বসন্ত )বরণ করতে ব্যস্ত হয়ে গতকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি সাদা মাঠা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালারদীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। তারা নৃত্যের তালে তালে দর্শকদেরও নাচিয়ে ছাড়লো। বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানটিকে আরও চাঙ্গা ও প্রাণবন্ত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে বার্ষিক বনভোজনের।

অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলো পীরগাছা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মোঃ সেকেন্দার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত
ছিলো সহকারি শিক্ষা অফিসার মোঃ রন্জু আলম।

বক্তৃতা দানকালে প্রধান অতিথি সেকেন্দার আলী বলেন, ছেলে-মেয়েদের এমন পার্ফরম্যান্স দেখে আমরা বিমোহিত। এটা ধরে রাখতে পারলে-ওরা আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেরিন আফরোজ কেয়া বলেন, ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক-আজ বসন্ত। বসন্ত আমাদের দুয়ারে সমাগত। বসন্তকে নবীণের আগমন ও পুরাতনের প্রস্হান-আখ্যায়িত করে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নতুন করে শপথ নিতে হবে। পড়ালেখায় মনযোগী হয়ে সু নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার কোন বিকল্প নেই।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্হিত ছিলেন, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মাহবুবর রহমান মিঠু মেম্বার, আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রমূখ।