আসাদ হোসেন রিফাত, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ নির্বাচনী সহিংসতায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিককে(২৩) ছুরিঘাত করা হয়েছে। সোমবার(১১ মার্চ) দিবগত রাতে উপজেলার মহিষখোচা বাজারে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তিনি ওই এলাকার হাসান আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদিতমারী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ একটি গ্রুপ নৌকা প্রতিকের রফিকুল আলমের পক্ষে অপর গ্রুপ আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুক ইমরুল কায়েসের(মোটর সাইকেল) পক্ষে নির্বাচনী গনসংযোগ করেন। উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা তারিক মিয়া বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। অপর দিকে ওই এলাকার কামারপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে শামিম মিয়া(২২) ও সর্দার পাড়া গ্রামের বাচ্চা মিয়ার ছেলে মাইদুল ইসলাম(২৭) নৌকার পক্ষে কাজ করেন।

প্রচার প্রচারনার শেষ দিনে এ উপজেলার নির্বাচন স্থগিত ঘোষনা করেন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন স্থগিত নিয়ে নৌকার ও মোটর সাইকেল প্রতিকের সমর্থকরা একে অপরকে দোষারোপ করেন। এমনই ভাবে নৌকার কর্মী মাইদুল ও মোটর সাইকেলের কর্মী তারিক মোবাইলে একে অপরকে গালমন্দ করেন। এরই জের ধরে সোমবার রাতে তারিক মহিষখোচা বাজারে গেলে মাইদুল ও শামীম তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ছুরি দিয়ে হাটুর নিচের মাংপেশি ছিড় ছিড় করে কেটে দিয়ে লোহার রড দিয়ে মারপিট করেন। পরে স্থানীয়রা বুঝতে আহত তারিককে উদ্ধার করে প্রথমে আদিতমারী হাসপাতাল ও পরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে আহত ছাত্রলীগ নেতাকে দেখতে আসা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল হোসেন সরকার জানান, আপাত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তারিকের পরিবার চাইলে সাংগঠনিক ভাবে সহযোগিতা করা হবে। তবে সুষ্ঠ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আরিফ হোসেন জানান, আহত তারিকের পায়ের হাঁড় ফেঁটে যেতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই সাথে বুকেও প্রচন্ড আঘাত পেয়েছেন। তাই তাকে সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।