সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধিঃ নরসিংদীর পাহাড়ি অঞ্চলে এমনটা দেখা যায়। দুর্গম এলাকা জয়নগরে জমি চাষ করছে কৃষক কলিম উদ্দিন। এই জেলাটি এক সময় বিখ্যাত গরু দিয়ে হাল চাষ করার প্রতিযোগিতা হত।

১৯৬৮ এর পর নরসিংহ রাজার নামে পরিচিত ছিল এই জেলাটি। তৎকালীন সময়ে বাদাম চাষ, বোরু চাষ ও বিভিন্ন চাষ করতে ২টি গরু, ৮টি গরুর বান, ১টি বাঁশের জোয়াল, ১টি হাতের লাঠি আর জমির পাশে ডাবা খাওয়ার একটি ডাবার নলি। তখনকার সময়ে জমির পাশে বাহারী গল্পের ও গানের সুরে হয়ে যেত দের কানি ক্ষেতের এক চাষ। চাষের পর পরই ঘরে থাকা কানজি চালের চটা ও সাথে শুকটির বর্তা। এই খাবার খেয়ে আবারও জমিতে ফিরত এই চাষিরা।

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর শিবপুর উপজেলা জয়নগর এলাকায় কৃষক কলিম উদ্দিন তার নিজের ফসলী জমিতে কাকরলের বিচি রূপন করবে বলে জমি চাষ করছে। তার কাছে সংবাদ কর্মীরা জিজ্ঞাসা করলে সে বলে যে, ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ করলে জমিতে তেমন ফসল হয় না। তাই বাব দাদার কালীন গরু দিয়ে করছি চাষ। এতে ভালো ফলন হবে আশা করি। কিন্তু আজ বর্তমান সময়ে এই জেলাতে ঘুরে দেখা যায় যে, প্রায় জায়গায়ই দেখা যাচ্ছে না গরু দিয়ে কোন চাষ। এই গরু দিয়ে চাষ করার নামটি ইতিহাসের পাতায় থাকবে বলে তিনি বলেন। এদিকে কৃষি বিশেষজ্ঞ সূত্রে জানা যায় যে, নরসিংদী জেলায় ৬টি উপজেলায় প্রায় অধিকাংশ কৃষক জমি চাষ করছে ট্রাক্টর দিয়ে।

গরু দিয়ে চাষ করছে প্রায় ৩৩ জন। এই ৩৩ জনে কৃষকের অন্যান্য কৃষকের ফসলীর জমির চেয়ে অপেক্ষাকৃতভাবে বিপুর পরিমাণ ফসল উৎপাদন হচ্ছে তাদের জমিতে। এদিকে রায়পুরা উপজেলার চরমরজাল এলাকায় ঘুরে দেখা যায় যে, এখনও কিছু কিছু এলাকায় কৃষকরা গরুর গোবর এর সাথে ছাই মিশিয়ে জমিতে ছিটিয়ে দিতে দেখা যাচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই জেলাটি একটি কৃষি বান্ধব জেলা। যা ইতিমধ্যেই সারা বাংলাদেশেই পরিচিত। তাই কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত এসমস্ত কৃষকদের প্রতি একটু সহানুভূতি ও পরামর্শ দিয়ে আসছে তা আর একটু বাড়িয়ে এই জেলার কৃষকরা কৃষি কাজের প্রতি আরও আগ্রহ বাড়বে।