সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধিঃ বিগত সময়ে সড়ক দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে চালক কিংবা দায়ী ব্যক্তির কী ধরনের শাস্তি হবে তা পরোয়া না করে শিবপুর উপজেলা চৈতন্যা বাসষ্ট্যান্ডের হাইস্কুলের সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্যদের নিয়ে একটি আলোচনার মাধ্যমে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে ছাত্রছাত্রীদের রোট পারাপারে লাল পতাকা দিয়ে একজন লোক নিয়োগ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায় যে, একই উপজেলার মর্জাল বাস ষ্ট্যান্ড, বারিচা বাজার, নারায়ন পুর বাজার, দরিকান্দি, চারাবাগ, কামারটেক, শিস্টিঘর, কোন্দারপাড়া, সৈয়দনগর সহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়েছে এই পদক্ষেপ। এতে করে ছাত্র ছাত্রীরা খুবই উৎসাহ ও দৃঢ়তার সাথে নিরাপদে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। বারিচা হাইস্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র তামিম বলেন, গত ২০১৫ ইং সালে আমাদের এই স্কুলের শাহিনুর আক্তার শ্রাবন্তী নামে ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রী সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়। কিন্তু আমরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মানব বন্ধন করে কোন প্রতিক্রিয়া না হওয়ায় আমাদের অভিভাবক ও শিক্ষক গন একত্র হয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নিয়েছে এই ব্যবস্থা।

এদিকে সৈয়দনগর এলকার ব্যবসায়ী মোঃ জাহিদ মিয়া বলেন, এই ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে চালকরা ব্যপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়ই ঘটে এই সড়ক দূর্ঘটনা। তাই আমরা বিকল্প কোন উপায় না পেয়ে প্রতি মাসে আট হাজার টাকার বিনিময়ে বিল্লালকে প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে ১০.৩০ ও ৩ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত লাল পতাকা নিয়ে তার করতে হয় এখানে ডিউটি। এতে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা ও আমাদের সন্তানরা নিরাপদে থাকবে বলে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। এদিকে কামারটেক সবুজ পাহারের কলেজের শিক্ষক মোঃ হাসান মিয়া বলেন, বিগত সময়ে এই মহাসড়কে আমাদের ছাত্রদের সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা নিরাপত্বার স্বার্থে ও ছাত্রদেরকে নিরাপদে বাড়ি ফিরানোর লক্ষে নিয়েছি এই ভূমিকা।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে লাল পতাকাবাহী যে কর্মসূচী নিয়েছে বিদ্যালয়গুলোতে তাতে সহজেই ছাত্ররা নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে। চালকরা স্কুলের কাছে এই পতাকাবহী সিগনাল দেখলে তাদের গাড়ির গতিটা কমিয়ে দিলে কমে আসবে এ সমস্ত অনাকাঙ্খিত সড়ক দূর্ঘটনা।