খালিদ হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচন আর একদিন পরেই। ২৪ জুনের এ নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। ডিএসবি পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য মতে, এই আসনের ১৪১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১১ টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, ভোটকেন্দ্রে যেকোনো ধরনের গোলযোগ ও সহিংসতা এড়াতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে বলেও জানান তিনি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শনিবার র‌্যাব-১২ বগুড়ার সদস্যরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। বগুড়া জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা হবে।

নির্বাচনী এলাকায় কাজ করবেন নির্বাহী হাকিমরা। ডিএসবি সূত্র জানায়, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য কাজ করবেন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার পুলিশ, চারশ বিজিবি, সাড়ে চারশ র‌্যাব, এবং এক হাজার সাতশ আনসার সদস্য রয়েছেন। বিগত নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আনসার সদস্যদের সঙ্গে একজন পুলিশ দায়িত্ব পালন করত। এবার ভোট গ্রহণের দিন ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ ১১১টি ভোটকেন্দ্রে পরিদর্শক বা উপ পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচজন পুলিশ মোতায়েন থাকবে। অন্য ৩০টি কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন থাকবে চারজন করে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন করে আনসার বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোট গ্রহণের আগেই মাঠে নামবেন ১৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। প্রতিটি ইউনিয়নে এক প্লাটুন এবং বগুড়া শহরে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি প্লাটুনে বিজিবির সদস্য থাকবেন ২০ থেকে ৩০ জন। ভোট গ্রহণের দিন র‌্যাবের ১৫ প্লাটুন সদস্য আইনশৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে থাকবে। এর বাইরে ১০ সদস্যের ১৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স। ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সহিংসতা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকবে ২৬টি ভ্রাম্যমাণ দল। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টি জামান নিকেতা (নৌকা), বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙ্গল), মুসলিম লীগের রফিকুল ইসলাম (হারিকেন), বাংলাদেশের কংগ্রেসের মুনসুর রহমান (ডাব) ও মিনহাজ মণ্ডল (আপেল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে তিন লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮ জন ভোটার ভোট দেবেন। উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে মহাজোটের প্রার্থী নুরুল ইসলামকে হারিয়ে বিজয়ী হন। মির্জা ফখরুল শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।