নাজমুল হাসান নাহিদ, গুরদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ নিজের বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনকে ফোন দিয়ে সহযোগীতা চেয়েছিলো নবম শ্রেণীর ছাত্রী বিউটি খাতুন(১৫)। অতপর সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছিলো নাটোরের গুরুদসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের ধানুড়া গ্রামে। স্কুল ছাত্রী বিউটি ধানুড়া সরদার পাড়া গ্রামের মো.এরশাদ আলীর মেয়ে।

ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী বিউটি খাতুন। স্কুল ছাত্রী বিউটি মুঠোফনে বলেন, গত কয়েকদিন যাবৎ আমার বাড়িতে আমার বিয়ের ব্যাপারে অনেক আলোচনা হচ্ছিলো। শনিবার আমার বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করার কথা ছিলো। কিন্তু আমি এখনি বিয়ে করতে চাই না। আমার খাতায় এমপি স্যার,ইউএনও স্যার এবং আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্যারের নাম্বার ছিলো। এ জন্যই আমি বাবার ফোনটা নিয়ে গোপনে আমাদের স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি স্যার, ইউএনও স্যার এবং আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্যারকে ফোন দিয়ে আমি আমার সমস্যার কথা জানালে কিছুক্ষন পরেই উপজেলা প্রশাসন আমার বাড়িতে এসে আমার বাবা- মাকে বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেয়। এখন আমি অনেক খুশি। কেননা আমি পড়াশোনা করতে চাই। বড় হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তমাল হোসেন জানান, এমপি স্যারের ফোন ও স্কুল ছাত্রীর ফোন পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার বিয়ে বন্ধ করি। অনেক সাহসী ভূমিকা রেখেছিলো স্কুল ছাত্রী বিউটি খাতুন। নিজের বিয়ে নিজেই বন্ধ করেছে। স্কুল ছাত্রীর বাবা-মা ক্ষমা চেয়ে বলেছে পুর্ন বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার তাকে তারা আর কখনও বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে না। স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, স্কুল ছাত্রী নিজেই আমাকে ফোন দিয়ে তার বিয়ে বন্ধ করার জন্য সহযোগিতা চেয়েছিলো। তখনি আমি উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেই।

ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করতে। পরে স্কুল ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ হয়েছে। এরকম প্রতিবাদী নারী আমাদের প্রতিটি ঘরে ঘরে থাকা উচিত। তাহলেই এ সকল অন্যায় কাজ গুলো নিমিশেই বন্ধ হয়ে যাবে। আমি স্কুর ম্যানিজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষক কে নির্দেশ দিয়েছি ওই ছাত্রীকে যেন সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হয় এবং আমি নিজেও তাকে আমার সাধ্য মত সহযোগিতা করবো।