উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: সাবধান হোন, গুজবকারী হিসেবে আইনের জালে ফেঁসে যেতে পারেন আপনিও। নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম (বার) বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে নড়াইল জেলা পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ইতোমধ্যে ফেসবুকে গুজব সৃষ্টিকারী এক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কোথাও কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির দেখা মিললে তাকে গণপিটুনি না দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, কারণ গণপিটুনি প্রদানকারীদেরও বর্তমানে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। নড়াইলসহ, দেশের বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে হত্যার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে, ছেলেধরা- এমন গুজব ছড়িয়ে একটি বিশেষ মহল বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ-প্রশাসন। ফলে এমন গুজবে কান দিয়ে, গুজবকে ছড়িয়ে দেয়ার মতো অভিযোগে যে কেউ গ্রেফতার হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে সচেতন করার পাশাপাশি এ বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করার কথা জানানো হচ্ছে। যেকোনো ধরণের গুজব প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টিমের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে আনসার ও ভিডিপি। বাহিনীর ৬১ লাখ সদস্য সাধারণ জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়। এ বিষয়ে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, কুসংস্কার থাকলে গুজব ছড়ায়।

পদ্মা সেতু নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য গ্রাম, ইউনিয়ন পর্যায়ে আনসার বাহিনীর লিডারদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে বার্তা পাঠানো হয়েছে। গুজব থেকে সাবধান হতে জনসাধারণকে সচেতন করতে ৬১ লাখ আনসার সদস্য কাজ শুরু করেছে। এমনকি গুজবকারীদের বিরুদ্ধে বাহিনীর সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও জানা গেছে। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যাতে কেউ গুজব ছড়াতে না পারে সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সকল স্তরের কর্মচারীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে গুজব রটানো সহজ বলে অসাধু মহল শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ সর্বসাধারণকে বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম (বার) আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, কারণ গণপিটুনি প্রদানকারীদেরও বর্তমানে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এদিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা এবং গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা ফৌজদারি অপরাধ বলে উল্লেখ করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এ বিষয়ে সারা দেশের বিভিন্ন ইউনিটকে গুজব প্রতিরোধে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দিয়েছে।

এরইমধ্যে গুজব প্রতিরোধে কাজও শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুজব ছড়ানোর দায়ে সারা দেশে গ্রেফতার হয়েছে বেশ কয়েকজন। গুজব প্রতিরোধে পুলিশ-প্রশাসন জনসাধারণকে সাবধানতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাচ্ছে। কেননা, গুজবকারী হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ফেঁসে যেতে পারেন আপনিও।