মো. বাদশা আলম, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুরের বিলনোথার গ্রামে প্রাইভেট শিক্ষক কর্তৃক পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে ওই ছাত্রী ও তার পরিবার এলাকার প্রভাবশালীদের চাপে অবরুদ্ধ থাকার এক পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রাতের আধারে পালিয়ে এসে থানায় আশ্রয় নেয় ওই ছাত্রী।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অবশেষে ধর্ষনের চেষ্টাকারী ওই প্রাইভেট শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত ১৮ অক্টোবর রাতে মামলা গ্রহন করে থানা পুলিশ। এদিকে মামলা দেয়ার পর থেকে অদ্যবধি তাদের নিজ গ্রামে প্রবেশ করতে পারছেনা ওই ছাত্রীর পরিবার। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ১০অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই শিক্ষকের বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এদিকে চক্ষুলজ্জায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ওই শিক্ষার্থী। মেয়ের পরিবারকে হুমকীসহ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত হয় কুচক্রীমহল।

উল্লেখ্য উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের বিলনোথাড় মধ্যপাড়া গ্রামের দুদু তরফদার ও তার স্ত্রী ফুলি বেগম তাদের পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়ে (১২) কে তার বৃদ্ধ নানীর কাছে রেখে ঢাকা গার্মেন্টস্ধসঢ়; এ চাকুরী করতে যায়। এদিকে ওই ছাত্রী একই গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে মিনহাজুল ইসলামের কাছে প্রাইভেট পড়তো। এর প্রেক্ষিতে প্রাইভেট শিক্ষক গত ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা অনুমান ৭টার দিকে তার বাড়িতে ওই ছাত্রীকে পড়ানোর একপর্যায়ে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ সময় ওই ছাত্রী চিৎকার দিলে ওই শিক্ষকের স্ত্রী জুঁই খাতুন নিজেই এসে তাকে উদ্ধার করে এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য নিষেধ করে।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলেও ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিক্ষক মিনহাজুলের আত্মীয়-স্বজনেরা চেষ্টা করে আসার পাশাপাশি ওই পরিবারকে কৌশলে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। এদিকে বিষয়টি এলাকায় গ্রাম্য শালিশান বৈঠকে ওই শিক্ষকসহ তাদের পরিবারের লোকজন দরবারে হাজির না হওয়ায় মাতব্বরগণ ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে শালিশনামা দেয়। এদিকে ওই ছাত্রীর পরিবার কয়েকদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকার একপর্যায়ে গত ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতের আধাঁরে নদী পার হয়ে গাড়িদহ ইউনিয়নে ফুলবাড়ী চকপাথালিয়া গ্রামের তার এক আত্মীয়ের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। এরপর গত শুক্রবার রাতে শেরপুর থানায় এসে অবশেষে মামলা দায়ের করে।

এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকে অদ্যবধি নিজ গ্রামে ঢুকতে পারছেনা বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ব্যাপারে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি, আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।