হাসান মাহমুদ, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আসন্ন একাদশ সমাবর্তন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। সমাবর্তনের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহম্মেদ সিনেট ভবনে প্রশাসন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। তিনি আরো বলেন, সমাবর্তনকে ঘিরে সকল কার্যক্রম ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সমাবর্তন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সাংগঠনিক কমিটির সহ অন্যান্য উপ-কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বঙ্গভবন, এসএসএফ, স্থানীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া সমাবর্তনের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নিরাপত্তাকর্মী, রোভার স্কাউট, ক্যাডেট কর্পস সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্র্যাজুয়েটদের সকাল ১১ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হবে। তারা দুপুর ১ টা পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারবে। তাদের দুপুরের খাওয়া স্টেডিয়ামের ভিতরেই ব্যবস্থা করা হবে। আমন্ত্রিত অতিথিরা দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য হেলিকপ্টর যোগে রাবির আমির আলী হলের পাশে অবস্থিত হেলিপ্যাডে আবতরন করবেন বিকাল ৩টায়। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৬ জন উপস্থিত থাকবেন। রাষ্ট্রপতি বিকাল সাড়ে ৩টায় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রবেশ করবেন। আগামী শনিবার অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ।

বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি ও সমাবর্তন বক্তা থাকবেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক রঞ্জন চক্রবর্তী। ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক সমাবর্তন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন। বিকাল পৌনে পাঁচটায় রাষ্ট্রপতির প্রস্থানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। উপাচার্য আরো জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো দুপুর আড়াইটার দিকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় আচার্যের প্রস্থান শেষে তা খুলে দেয়া হবে। সমাবর্তন শেষে থাকছে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পী থাকবেন লুইপা ও খুর্শিদ আলম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উন্মুক্ত থাকবে। জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারের সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৩ হাজার ৪৩২ জন গ্র্যাজুয়েট। এর মধ্যে কলা অনুষদের দশটি বিষয়ে মোট ৬৬৬ জন; আইন অনুষদের আইন বিষয়ে ৮৯ জন; বিজ্ঞান অনুষদের আটটি বিষয় মোট ৩৭৭ জন; বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ৫০৫জন; সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নয়টি বিষয়ে ৫৮২ জন; জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ছয়টি বিষয় ৩১০ জন; কৃষি অনুষদের চারটি বিষয়ে ৮৫ জন; প্রকৌশল অনুষদের পাঁচটি বিষয়ে ১৩৫ জন; চারুকলা অনুষদের দুটি বিষয়ে ৪৩ জন ও ইনস্টিটিউট সমূহে ৬ জন গ্রাজুয়েট স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি জন্য নিবন্ধন করেছে।

এছাড়া এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রীর জন্য যথাক্রমে ৫১১ ও ১২৩জন নিবন্ধিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রাবি উপাচার্য গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে অনেককে সমাবর্তনে প্রবেশের জন্য পাস না দেয়ায় তোপের মুখে পড়েন উপাচার্য। পরে উপাচার্য দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ আব্দুল বারী, জনসংযোগ কর্মকর্তা অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু, প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানসহ সহকারী প্রক্টর, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।