জয়নাল আবেদীন,বেনাপোল প্রতিনিধি: অযত্নে আর অবহেলায় রয়েছে যশোরের ঝিকরগাছায় নায়ড়া বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিফলক।যা ১৯৯৭ সালে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের নায়ড়া গ্রামে স্থাপন করা হয়।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নায়ড়া গ্রামে এক নির্বাচনী সভায় আসেন এবং জনসভায় বক্তব্য প্রদান করেন। পরে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে জনসভাস্থলে একটি স্মৃতিফলক তৈরি করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, ঝিকরগাছা উপজেলায় ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু একমাত্র জনসভা করেছিলেন নায়ড়া গ্রামে। তিনি পায়ে হেঁটে ও বাইসাইকেল চালিয়ে জনসভাস্থলে আসেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত জায়গাটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য একটি নামফলক তৈরি করার দাবি ছিল এলাকাবাসীর।

সেই দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে তৎকালীণ আওয়ামী লীগ সরকারের হুইপ ও যশোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সরকারি অর্থায়নে একটি নামফলক তৈরি করেন। তারপর থেকে ফলকটির প্রতি আর কেউ নজর দেয়নি। ফলে অযত্নে আর অবহেলায় থাকা স্মৃতিফলকটি যত্ন এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজনে পুনর্নির্মাণ করার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।

নায়ড়া গ্রামের বাসিন্দা ৮১ বছরের বৃদ্ধ খন্দকার জালাল উদ্দীন সেদিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। স্মৃতিচারণকালে তিনি বলেন, ১৯৫৪ সালের ২৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণায় ঝিকরগাছা উপজেলার নায়ড়া গ্রামে আসেন। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সাথে ছিলেন যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী মশিউর রহমান। রাস্তা কাঁচা তাই বঙ্গবন্ধুর বহনকারী প্রাইভেটকার সামটা গ্রামে রেখে নায়ড়া গ্রামের খন্দকার বজলুর রহমানের গাড়িতে করে বঙ্গবন্ধু ও তার সকল সঙ্গীদের নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন।

নায়ড়া গ্রামে পৌঁছানোর পর বঙ্গবন্ধু দিঘিতে ওজু করে নায়ড়া গ্রামে অবস্থিত হযরত শাহ সুফি সুলাইমান (র.) এর মাজার জিয়ারত করেন এবং মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করার পর খন্দকার বজলুর রহমানের বাড়িতে দুপুরের খাবার খান।

সেদিন বিকেলে নায়ড়া বাজারে এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু বক্তব্য রাখেন। ওই জনসভা পরিচালনা করেন, তখনকার তরুণ নেতা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, গণপরিষদ সদস্য, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য, বঙ্গবন্ধুর সাবাস চেয়ারম্যানখ্যাত আবুল ইসলাম। এটি এখন গ্রামবাসীর স্মৃতির পাতায় ভেসে বেড়ায়।

বঙ্গবন্ধুর নায়ড়ায় আগমনের স্মৃতি আগামী প্রজন্মের কাছে সহজে তুলে ধরতে এবং বঙ্গবন্ধুর নামে স্থাপিত বর্তমান অবহেলায় অযত্নে থাকা স্মৃতি ফলকটি রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজনে পুনর্নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে শংকরপুর ইউপি চেয়ারম্যান নিছার উদ্দীন বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদে মিটিংয়ে আমি বিষয়টি অবশ্যই তুলবো। এটি আমার একার সিদ্ধান্ত নয়। মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো।

শংকরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা গর্বিত বঙ্গবন্ধু নায়ড়া গ্রামে তার পদধুলি দিয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি বঙ্গবন্ধুরস্মৃতি ফলক রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজনে পুনর্নির্মাণের জন্য আমি সকল সরকারি দপ্তর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করবো।

ঝিকরগাছা নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডাক্তার কাজী নাজিব হাসান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে কেউ জানায়নি। আপনার কাছ থেকে জেনে অবগত হলাম। খোঁজ-খবর নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জয়নাল আবেদীন
বেনাপোল প্রতিনিধি