সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গত বেশ কয়েকদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ডভিত্তিক প্রায় প্রতিটি এলাকার পাড়া-মহল্লায় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং কিশোং গ্যাং দলবদ্ধ হয়ে বাঁশ, কাঠ, গাছের গুড়ি, টিন, টেবিল ফেলে এবং দড়ি বেঁধে যেকোন ধরণের পরিবহন যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এতে দ্রুত সেবা না পাওয়ার আশঙ্কায় পড়েছেন এলাকাবাসী।

বিশেষ করে যাদের ঘরে বয়স্ক বৃদ্ধ এবং দীর্ঘদিন যাবৎ শারীরিক নানা সমস্যায় আক্রান্ত সদস্য রয়েছে, তাদের দুঃচিন্তা একটু বেশিই। এমন অবস্থায় এসব পরিবারের লোকজন জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন বলে আশঙ্কায় করছেন পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া বাশের দেয়া এই প্রতিবন্ধকতার কারণে পাড়া-মহল্লাগুলোতে প্রশাসনের টহল জোরদার হচ্ছেনা। ফলে অলিগলিতে সাধারণ মানুষ কোন কারণ ছাড়াই জমায়েত করছে। কোথাও কোথাও চায়ের দোকান খুলে যুবকরা দিচ্ছে আড্ডা। এমন পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অনেকে আবার মাদাকাশক্ত বলেও অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জরুরী প্রয়োজনে কেউ বাইরে গেলে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অনেকেই সাধারণ মানুষকে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করে। হাতে লাঠি নিয়ে আঘাত করার জন্য তেঁড়ে আসে। সরেজমিনে নাসিক ১নং ওয়ার্ডস্থ পাইনাদী নতুন মহল্লায় পিএম এর মোড়ে, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল, কদমতলী সহ সিদ্ধিরগঞ্জের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই এমন কয়েকজনকে দেখা যায় লাঠি হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার করতে। একই সময় এদের কাউকে আবার দাড়িয়ে সমষ্টিগতভাবে সিগারেট টানতেও দেখা গেছে।

সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে প্রতিবন্ধকতার এমন দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে এরা মানুষকে সচেতন করতে মানবীক কাজে না নেমে উল্টো মানুষকে শাসন করতে অমানবীক হয়ে নেমেছে। অথচ এরা একাধিক ব্যক্তি নিজেরাই নানা রঙের টি শার্ট পড়ে হাতে লাঠি নিয়ে জড়ো হয়ে মজাদার আড্ডায় মেতে উঠছে। মানুষকে লাঠি দিয়ে তাড়ানো যেন তাদের কাছে বিনোদনের কোন কেন্দ্রতে পরিনত হয়ে উঠেছে। যা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তাকেও সিদ্ধিরগঞ্জে এখন পর্যন্ত করতে দেখা যায়নি। শুধুমাত্র হীরাঝিল এবং ইউরো টাওয়ার এলাকায় সামাজিক কিছু সংগঠনের যুবকদের সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে সচেতন করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। এদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও কাউন্সিলরদের নির্দেশেই তারা এমন দায়িত্ব পালন করছে। যদিও এদের নিজেদেরকেই সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যাচ্ছেনা। মুঠোফোনে এমন অবস্থার কথা জানিয়ে মিজমিজি পূর্বপাড়া এলাকার মোঃ জাকির হোসেন বলেন, এলাকার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বাঁশ, কাঠ, গাছের গুড়ি দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে প্রশাসনের গাড়ি নিয়ে পুলিশ টহল দিতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এতে এলাকা ও মহল্লা ভিত্তিক মানুষের সমাগম কমছেনা। অথচ এদের প্রশাসন বা অন্য কেউ এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অনুমতি দেয়নি। তারা মানুষের চরম দুর্ব্যবহার করছে। যা মানুষকে সচেতন করার আওতায় পড়ে বলে মনে হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, আমার স্ত্রী গর্ভবতী। যেকোন সময় তাকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে এমবুল্যান্স ঢুকতে গেলেও বাধাগ্রস্থ হবে।

তাছাড়া এসব প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে আসতেও অনেক সময় লেগে যাবে। যার ফলে মারাত্বক দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমার মত এমন যেকোন পরিবারের সদস্যদের বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সমস্যার কথা জানান পাইনাদী নতুন মহল্লার যুবক রাশেদুল রাহুল। তিনি জানান- যদি ইমারজেন্সি এম্বুল্যান্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা পুলিশ আসার প্রয়োজন পড়ে, সেক্ষেত্রে এসব সার্ভিসের লোকজন আসতে বাধাগ্রস্থ হবে। এতে কোন কোন পরিবারের বিরাট ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যবস্থা কী? এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ফারুক জানান, এলাকায় যাতে মানুষের চলাচলের কারণে জনসমাগম না হয় সেজন্য হয়তো ব্লক দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু মানুষ লকডাউন মানছে না, বিষয়টি দেখছি।