লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর ছুরিকাঘাতে আহত নববধূ মরিয়ম বেগমের(২৩) মৃত্যু হয়েছে। সোমবার(১০ আগস্ট) সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত নববধূ মরিয়ম বেগম উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর বালাপাড়া গ্রামের সোহাগ মিয়ার(২৫) স্ত্রী। তিনি একই উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের মালগাড়া গ্রামের মৃত মোস্তফার মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৭ মাস আগে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর বালাপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে সোহাগ মিয়ার সাথে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সোহাগ যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে নানা ভাবে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতো। গত ৪ আগস্ট নববধূ স্ত্রী মরিয়মকে ভরণ পোষনের খরচ ছাড়া বাড়িতে রেখে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় স্বামী সোহাগ মিয়া। এতে বিরোধিতা করেন মরিয়ম। এ নিয়ে উভয়ের মাঝে বাকবিতন্ডা বাঁধে। এর একপর্যয়ে মরিয়মকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন স্বামী সোহাগ।

নববধূ মরিয়মের আত্নচিৎকারে স্থানীয়রা এসে সোহাগকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এবং আশংকাজনক অবস্থায় মরিয়মকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জালড়ে হেরে যান নববধূ মরিয়ম। সোমবার(১০ আগস্ট) সকালে চিকিৎসকরা মরিয়মকে মৃত ঘোষনা করেন।

এ ঘটনায় ওই দিনই (৪ আগস্ট) ঘাতক স্বামী সোহাগসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মরিয়মের মা আজিমন নেছা। সেই মামলায় আটক স্বামী সোহাগকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।

কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘাতক স্বামী সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।