বাড়ি জাতীয় কেন নির্বাচন পেছাতে চায় না নির্বাচন কমিশন

কেন নির্বাচন পেছাতে চায় না নির্বাচন কমিশন

গণফোরাম সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পেছানোর দাবি নিয়ে আরও একবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বুধবার (১৪ নভেম্বর) দ্বিতীয়বারের মত নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাচন পেছানোর দাবি করেছে।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তারা নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর দাবি জানিয়েছেন। অর্থাৎ বিরোধীরা চাইছে নির্বাচন জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে নেওয়া হোক।

তবে কোনো প্রতিশ্রুতি নির্বাচন কমিশন দেয়নি। শুধু বলা হয়েছে, প্রস্তাব নিয়ে কমিশন ভাববে।

এদিকে, বিরোধীরা সবসময় যুক্তি দিচ্ছে, সংবিধান মেনেই ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন করা যায়।

কিন্তু কেন নির্বাচন কমিশন এই যুক্তি মানছে না? কেন তারা মনে করছেন ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই তাদের নির্বাচন করতে হবে? এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

নির্বাচন কমিশনের উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে, বিবিসিকে তাদের যুক্তি তুলে ধরেছেন:

নির্বাচন কমিশন মনে করছে, কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন কারণে ৩১ ডিসেম্বর থেকে পরের তিন সপ্তাহ পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে থেকে নির্বাচন নিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব হবেনা।

ইংরেজি নববর্ষ

নির্বাচন কমিশন মনে করছে যেহেতু ঘটা করে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন এখন ঢাকার বাইরে অন্যান্য বড় শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে, সে কারণে ৩১ তারিখ রাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সেটি নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকতে হয়। পহেলা জানুয়ারিতেও তার রেশ গিয়ে পড়ে।

বিশ্ব ইজতেমা
১১ই জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দু দফায় বিশ্ব ইজতেমা হবে। ইজতেমার সময় নিরাপত্তা বিধান পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য সবসময়ই একটি বড় দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন সে কারণে মনে করে, জানুয়ারির মাঝামাঝি নির্বাচন করা অসম্ভব কারণ ইজতেমা নিয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জানুয়ারির ২০ তারিখ পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হবে।

ইজতেমা এ বছর পিছিয়ে দেওয়া কি যায়না? এই প্রশ্নে ঐ কর্মকর্তা বলেন – ইজতেমায় বহু দেশ থেকে বহু মানুষ আসেন, অনেক কর্মসূচি অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে । ফলে ইজতেমা পেছানো প্রায় অসম্ভব।

সাংবিধানিক সঙ্কটের ঝুঁকি
ইজতেমার পর অর্থাৎ ২০ তারিখের পর নির্বাচন কেন করা যাবেনা? নির্বাচন কমিশনের ঐ কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে নিয়ে গেলে সংবিধান সঙ্কট তৈরির ঝুঁকি থাকবে।

তিনি বলেন, ‘জানুয়ারির ২৮ তারিখের মধ্যে নতুন সংসদ হতে হবে। যদি কোনো কারণে কোনো আসনে বা কোনো সেন্টারে নতুন ভোট করতে হয়, তাহলে তার জন্য সময় প্রয়োজন। কতগুলো আসন বা সেন্টারে নতুন করে ভোট নিতে হতে পারে এবং তার জন্য কতটা সময় প্রয়োজন তা আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়।’

ফলে নির্বাচন কমিশন হাতে কিছু সময় রাখতে চায়।

এ ক্ষেত্রে বিবিসির এ প্রতিবেদক মনে করছেন, জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচন করার জন্য বিরোধীদের দাবিতে নির্বাচন কমিশন কান দেবে -সে সম্ভাবনা খুবই কম।