বাড়ি ধর্ম ইজতেমাকে ঘিরে দুই পক্ষের চরম উত্তেজনা, যান চলাচল বন্ধ

ইজতেমাকে ঘিরে দুই পক্ষের চরম উত্তেজনা, যান চলাচল বন্ধ

আগামী ৩০ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এদিকে বিশ্ব ইজতেমাকে ঘিরে তবলিগ জামায়াতের দুই পক্ষের কর্মসূচিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির আশঙ্কা করছে নির্বাচন কমিশন ইসি।

এদিকে রাজধানীতে তাবলীগ জামাতের দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষই বেশ মারমুখী অবস্থান নিয়েছে। উত্তরার বিমানবন্দরের কাছে আশকোনায় আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সড়কের এক পাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমাণ আইন শৃঙ্খলারক্ষা বাহিনী উপস্থিত আছেন বলে জানা গেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে যেকোন সময় বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে জানা যায়, শুক্রবার থেকে টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমা ময়দানে তবলীগ জামাতের যে জোড় এজতেমা শুরু হওয়ার কথা ছিল তা এক পক্ষের বাধার কারণে পন্ড হয়ে গেছে। পুরো ইজতেমা ময়দান এখন জোবায়ের দেওবন্দ কওমিপন্থীদের দখলে।

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইজতেমা মাঠে যে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এ বিষয়ে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্ম-সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তাছাড়া তার নির্দেশনার অনুলিপি মহাপুলিশ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের আগে ইজতেমা ময়দানে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান করতে দেওয়া যাবে না। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, তাবলিগ জামায়াত বাংলাদেশের তরফ থেকে ইসিতে করা আবেদনে টঙ্গী ময়দানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাছাড়া তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ দিনের জোড় সম্মেলন এবং আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের ইজতেমা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

অপরদিকে দেওবন্দপন্থীরা ৭ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জোড় এবং আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের ইজতেমা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। যার জন্য তাদের এই দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ঘোষণাতে ইতোমধ্যেই উত্তেজনা অনেকটা ছড়িয়ে পড়েছে। এ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে উভয় পক্ষের মধ্যে যেকোন সময় বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।